মেইন ম্যেনু

দেশে ২৮ লাখের বেশি মামলা, বিকল্প পন্থায় নিষ্পত্তির আগ্রহ

সুপ্রিম কোর্টের ২০১৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের আদালতে বর্তমানে ২৮ লাখেরও বেশি মামলা পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ‘বিকল্প পন্থায় এসব মামলা নিষ্পত্তি হলে দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে মামলা জটের বিশাল চাপ কমবে।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘এক্সেস টু জাস্টিস: দ্য রোল অব কমিউনিটি মেডিয়েশন’ শীর্ষক কমিউনিটি লিগ্যাল সার্ভিসের (সিএলএস) জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ডিএফআইডি) অর্থায়নে কমিউনিটি লিগ্যাল সার্ভিসেস (সিএলএস) প্রোগ্রাম এবং আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা যৌথভাবে এ সম্মেলন আয়োজন করে।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সুবিধা বঞ্চিতদের আইনী সহায়তা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সমাজ ভিত্তিক সালিশসহ বিভিন্ন ধরনের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) ভূমিকার গুরুত্ব আমরা স্বীকার করি। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিচারপ্রাপ্তি এবং আইনী সহায়তা দানে সরকার ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।’

আনিসুল হকজাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক সিনিয়র জেলা জজ মালিক আব্দুল্লাহ আল-আমিন বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা যায় না এমন জটিল বিরোধ এবং ধর্ষণের মতো ঘটনা যার সালিশী নিষ্পত্তি বেআইনী, এমন বিরোধগুলোর যথাযথ পদক্ষেপের জন্য ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল এইড কমিটিতে (ডিএলএসি) পাঠানো উচিৎ।’

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থাও (এনএলএএসও) এ ধরনের বিরোধ নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বলেও জানান তিনি।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সাড়ে ৬ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার জনকে স্থানীয় সালিশী ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনী সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

জার্মান উন্নয়ন সংস্থা ‘জিআইজেড’ পরিচালিত ‘২০১২ জাস্টিস অডিট প্রতিবেদনে’র তথ্য অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ মানুষ বিকল্প পন্থায় মামলা নিষ্পত্তিতে বেশি আগ্রহী। বাংলাদেশে মোট মামলার মাত্র ২০ শতাংশ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বিকল্প পন্থায় মামলা নিষ্পত্তির হার ৮০ শতাংশ।

সম্মেলনে জানানো হয়, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৫৭ হাজার ২৭৫ নারী, ৫২ হাজার ৩৫৪ পুরুষ ও ৩২৫ শিশুসহ মোট ১ লাখ ৯ হাজার ৯৫৪ জনকে সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান করেছে। এর মধ্যে দেওয়ানি ১৪ হাজার ৩৭১টি মামলা এবং ফৌজদারি ২৬ হাজার ৬১৫টি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে।