মেইন ম্যেনু

দেড় শতাধিক ছাত্রী ধর্ষণকারী পান্না মাস্টারের ১০ বছরের দণ্ড

ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষক পরিমল জয়ধরের পর এবার কুষ্টিয়ার আলোচিত পর্ণোগ্রাফি ঘটনার নায়ক পান্না মাষ্টারকে দুই মামলায় পাঁচ বছর করে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত, যার বিরুদ্ধে দেড় শতাধিক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। একই সঙ্গে দুই মামলায় আড়াই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কুষ্টিয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বেগম মাহমুদা খাতুন এ রায় দেন।

মামলায় অপর তিন আসামি প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল, মনোয়ার হোসেন মনো ও আওলাদ হোসেন দুলালকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরতলির আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হেলাল উদ্দিন ওরফে পান্না মাস্টার একই বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর নামে ব্লাকমেইলিং করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে। একই সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে নিজের ল্যাপটপে সংরক্ষণ করে। পরে এসব ভিডিওর ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ছাত্রীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে থাকে। এক ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৩ সালের ১৫ জুন সেই ছাত্রীর ভাই ও এলাকাবাসী পান্না মাস্টারকে তার বাড়া বাসায় আটক করে গণধোলাই দেয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়।

পান্না মাস্টার ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল, মনিরুল ইসলাম মনো, আওলাদ হোসেন ও শরিফুল ইসলাম সজল।

আদালতের সরকারি পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এএসএম আসাদুজ্জামান মামুন জানান, ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে কয়েকজন ছাত্রী বিষয়টি অভিভাবকদের জানিয়ে দিলে গোটা কুষ্টিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পান্না মাস্টারের ল্যাপটপে সংরক্ষিত এসব ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের মুখে পুলিশ পান্না মাস্টারের ল্যাপটপ জব্দ করে।

এ ঘটনায় করা দুই মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে পান্না মাস্টারকে দুটি ধারায় ৫ বছর করে ১০ বছরে কারাদণ্ড ও আড়াই লাখ টাকা জরিমানা, আনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আলিমুজ্জামান টুটুল, মনিরুল ইসলাম ও আওলাদ হোসেনকে বেকসুর খালাস দেয়। আরেক আসামি প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম সজল বছর খানেক আগে মারা যান। রায় ঘোষণার সময় পান্না মাস্টার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।



« (পূর্বের সংবাদ)