মেইন ম্যেনু

দোষ শুধু ট্রাম্পের?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের সাত প্রেসিডেন্টের মধ্যে ছয়জনই নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। উদ্দেশ্যে, বিশেষ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ করা। এসব প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট, উভয় পার্টির ছিলেন।

ইরানে জিম্মি অবস্থায় থাকা আমেরিকানদের মুক্ত করতে ব্যর্থ হবার পর প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ১৯৮০ সালের এপ্রিল মাসে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ইরানিদের বিরুদ্ধে। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান নির্বাহী আদেশ জারি করেন হাইতি এবং কিউবার নাগরিকদের বিরুদ্ধে।

ডেমোক্র্যাট দল থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে জারি করা নির্বাহী আদেশে কসোভোর নাগরিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ২০০১ সালের জুনে প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ জারি করেন ওয়েষ্টার্ন বলকানে বর্বরতায় দায়ীদের বিরুদ্ধে।

সাধারণত এসব প্রেসিডেন্টই তার নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন অভিবাসনের বিরুদ্ধে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের সাবেক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ক্লেট স্যামসন বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পও একইভাবে তার ক্ষমতাকে ব্যবহার করছেন।

যখনই কোনো প্রেসিডেন্ট উপলব্ধি করেছেন যে, বিশেষ দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে ভয়ঙ্কর অপকর্মে লিপ্ত হতে পারে, তখনই ঐসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করেছেন। অর্থাৎ এটি নতুন কোনো ব্যাপার নয়।

গত ২৭ জানুয়ারির নির্বাহী আদেশে ইরাক, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটিকে ‘মুসলিম ব্যান’ হিসেবে অভিহিত করে আদালতে গেছেন অনেকে। আদালত স্থগিতাদেশ জারি করেছেন ওই আদেশের বিরুদ্ধে।

যদিও হোয়াইট হাউজ থেকে যুক্তি দেখানো হচ্ছে যে, ৪০টিরও অধিক দেশের সিংহভাগ নাগরিকই মুসলমান। তার মধ্যে মাত্র সাত দেশকে সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটি কীভাবে মুসলিম ব্যান হয়। নভেম্বরের নির্বাচনের আগে জনসমাবেশে প্রদত্ত বক্তব্যে ট্রাম্প মুসলমানদের নিষিদ্ধ করার হুংকার দিয়েছেন। সেই প্রচারণার ফাঁদে পড়লেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

২০১১ সালের আগস্টে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। সেই আদেশে যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত-লিঙ্গ অথবা অন্য কোনো কারণে জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে বর্বরতা চালানো ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়।