মেইন ম্যেনু

দ্বিতীয় স্বামীর কারণেই শাকিরা আত্মঘাতী জঙ্গি

রাজধানীর আশকোনার সূর্য ভিলার জঙ্গি আস্তানায় আত্মঘাতী নারী শাকিরার জঙ্গি হয়ে ওঠায় বিস্মিত তার প্রতিবেশীরা। তাছাড়া তিনি যে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন বা কাকে করেছেন সে সম্পর্কে শুধু প্রতিবেশীরা কেন বাবা মাও জানতেন না।

পুলিশের ভাষ্য, শাকিরার দ্বিতীয় স্বামীর নাম রাশেদুর রহমান ওরফে সুমন। তিনি জেএমবির সক্রিয় সদস্য। এই দ্বিতীয় স্বামীই তাকে বিপথগামী করেছেন।

শকিরার বাবা চরফ্যাশনের এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম চৌকিদার (৫৬)। মায়ের নাম ফাতেমা বেগম (৬৫)। শাকিরারা চার বোন এক ভাই। বোনদের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ভাইটি মানসিক প্রতিবন্ধী।

চার বছর আগে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় পার্শ্ববর্তী লালমোহন উপজেলার জনৈক ইকবালের সঙ্গে বিয়ে হয় শাকিরার। ইকবাল ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলায় ছোটখাটো ব্যবসা করতেন। তাদের সংসারে রয়েছে সাবিনা নামে এক মেয়ে।

রাজধানীর আশকোনার সূর্য ভিলার জঙ্গি আস্তানায় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে মেয়ে শাকিরার নিহত হওয়ার খবরে বিচলিত হয়ে ওঠেন বাবা শাহ আলম। হেনস্তা হওয়ার ভয়ে আত্মগোপন করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। পরে স্থানীয় পুলিশ যোগাযোগ করে তাকে নিয়ে বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকায় নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) শাকিরার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও লাশ শনাক্ত করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, শাকিরার প্রথম স্বামী ইকবাল ক্যানসারে ভুগে সাড়ে ৩ বছর আগে মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর শাকিরা মেয়েকে নিয়ে ভোলায় ফিরে যাননি। মোহাম্মদপুরের একটি ক্লিনিকে কাজ করতেন। সেখানেই পরিচয় হয় রাশেদুর রহমান ওরফে সুমনের সঙ্গে।

কীভাবে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত: শাকিরার বাবা-মায়ের দাম্পত্য জীবন ভেঙে যাওয়া, অসচ্ছলতা আর জমিজমা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধে পুরো পরিবারে চলছে বিশৃঙ্খল অবস্থা। এর অবস্থাতেই কি শাকিরা জড়িয়ে পড়ে জঙ্গিবাদে? এ প্রশ্নের জবাবে খুঁজতে শাকিবার বাবা শাহ আলম চৌকিদারের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।

বাড়িতে ও আশপাশে যাদের পাওয়া যায়, তারা শাকিরার জঙ্গি হয়ে ওঠায় হতভম্ব। কয়েকজন স্বজন বলেন, গেল তিন চার বছর ধরে গ্রামের বাড়ি বা শ্বশুরবাড়িতে আসেননি শাকিরা। মোবাইল ফোনে নিজ পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলেও স্বামীর পরিবারের সঙ্গে রেখেছে কিনা তা তারা জানেন না। তবে শাকিরার বাবা মেয়ে ও নাতনিকে ভোলায় আসার জন্য অনেক অনুনয়-বিনয় করেছেন। কারণ বাবা চাননি তার মেয়ে ঢাকায় একা একা থাকুক। কোরবানির ঈদের পর ভোলায় বাড়িতে এসেছিলেন শকিরা।

তবে শাকিরার মা ফাতেমা বেগম দাবি করেন, মেয়ে যে আবার বিয়ে করেছেন সেই খবর তিনি বা তার পরিবার জানত না। আগে মোটামুটি নিয়মিত বাড়িতে ফোন করে তাদের খোঁজ নিলেও কোরবানির ঈদের পর শাকিরা আর যোগাযোগ করেননি। রাশেদুর রহমান ওরফে সুমন নামে যে ব্যক্তিকে শাকিরার স্বামী বলা হচ্ছে, তাকে তিনি চেনেন না।

এদিকে, শকিরার বাবা শাহ আলম চৌকিদার জানতেন তার মেয়ে চাকরিজীবী। কখন কাকে আবারো বিয়ে করেছেন কিংবা জঙ্গি হয়ে উঠেছে এ সম্পর্কে কোনো কিছুই জানতেন না বাবা শাহ আলম। সে কারণেই জঙ্গি মেয়ের বাবা এই লজ্জায় পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফউদ্দিন শাহিন জানান, শাকিরার বাবাকে আটক করা হয়নি। তবে উপরের নির্দেশে তাকে মেয়ের লাশ শনাক্ত করতে ঢাকায় পাঠানো হয়।

ছবি : শাকিরার বাড়ি ও পরিবারের তিন সদস্য