মেইন ম্যেনু

হাতে পারে ৫০ হাজার মানুষের বাসস্থান

দ্বীপের ভেতর যেন আরেক দ্বীপ : ভোলার নতুর চরে সম্ভবনার হাতছানি

মোঃ ফজলে আলম, জেলা প্রতিনিধি, ভোলা : ভোলার দ্বীপের ভেতর যেন আরেক দ্বীপ। প্রায় ১০ বছর আগে মেঘনার বুকে জেগে উঠা এক টুকরো ভুখন্ড। সেখানে বসতির নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে গাজীপুর চরে।

চরটিতে ৫ হাজার একর জমিতে কৃষি কাজ করে সফলতা দেখতে পেয়েছে সেখান কার কৃষকরা। বালু ও মাটির সংমিশ্রনে ভূ-পৃষ্ঠ তৈরী হওয়ায় তা বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরী হয়েছে। এরফলেই এখানে নতুন বসতির ঠিকানা হতে পারে বলে মনে করছেন চরবাসী। এক সময় ভোলা সদরের গাজীপুর ইউনিয়ন নামে পরিচিত ছিলো আজকের এ গাজীপুর চর। প্রায় ২০ বছর আগে মেঘনার গ্রাসে বিলীন হওয়ার পর পলী জমতে জমতে ২০০৪ সালের এটি ফের নতুন করে জেগে উঠে।জনবসতিপূর্ন বিচ্ছিন্ন জনপদ মাঝের চর, মধুপুর ও চর বৈকণ্ঠপুর চরের মাঝামাঝি এলাকায় গাজীরপুর চরের অবস্থান। চরটি জেগে উঠার পর থেকে জমির মালিকগন সেখানে ধান ও ডালসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে আসছেন। মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী থাকায় ফসল উৎপাদন করে বেশ লাভবান হন তারা। বর্তমানে ৩শতাধিক মালিক সেখানে চাষাবাদ করছেন।

চরবাসী বলছেন, সরকারী উদ্যোগ থাকলে অন্তত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাসের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে ভোলার নতুন চর, গাজীপুর চরে এবং ভবিষ্যতে এটি পুনাঙ্গ একটি ইউনিয়ন হতে পারে।

প্রায় ৫ হাজার একর জমি রয়েছে গাজীপুর চরে। তবে বসবাসের উপযোগী হলেও এখন তেমন মানুষ বসাবাস করছেন না। কিছু সংখ্যক লোক একচালা ঘর তৈরী করে ফসল পাহাড়া দেন। খুব সহজেই ট্রলার যোগে এখান থেকে জেলা সদরে যাওয়া যায়। নদীতে রয়েছে মাছ, রাখালরা গরু-মহিষ চড়ান এ চরে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুরো চরে টিউবওয়েল, গুচ্ছ গ্রাম, আবাসন প্রকল্প, বাজার, স্কুল, মাদ্রাসা, বৃক্ষ রোপনসহ নানা ধরনের মানব বসবাস উপযোগী উপকরন হলে গাজীপুর চরে মানুষের বসতি গড়ে উঠতে পারে। তবে সামান্য জোয়ারের প্লাবন থাকায় উচু ঘর নির্মান হতে হবে। বাঁধ নির্মান করলে অন্য চরের মত এখানে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করতে পারবেন। এতে নদী ভাঙ্গনে গৃহীহারা ভূমিহীন পরিবারগুলোর বাসস্থানের নতুন ঠিকানা খুঁজে পাবে।

চর ঘুরে দেখা গেছে, সমতল ভূমি নিয়ে গাজীপুর চর। বর্তমানে দক্ষিন গজীপুরসহ ৪টি মৌজা রয়েছে চরে। চারদিকে সবুজের ক্ষেত। তবে গাছ পালা নেই। একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হেটে যাওয়ার সুবিধা রয়েছে।

চরের শিশু মনির, নোমান ও লোকমান বলেন, আমরা মাঝে মধ্যে চরে ঘুরতে আসি, বাপ-দাদার কাছ থেকে জানতে পেরেছি, এক সময় এখানে আমাদের বাড়ি ছিলো। আমরা এখানে থাকতে চাঁই। তাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করলে অনেক শিশু শিক্ষার সুযোগ পেতো।

চরের জমির মালিক কৃষক সিরাজ জানান, চরে আমার ১৫ এক জমির রয়েছে, বর্তমানে ওইসব জমিতে কৃষিকাজ করছি, এখানে ঘর-দুয়ার তৈরী হলে অনেকেই থাকতে পারবে।

জমির মালিক কামাল, নুরুন্নবী, আজাদ বলেন, গাজীপুর চর আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। সরকার থেকে আমরা তা বুঝিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি।

তারা বলেন, চরটি এখন মানুষের বসবাসের উপযোগী হয়ে তৈরী হয়েছে। সরকার চরে আবাসন প্রকল্প ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করলে অনেক মানুষ বসবাস করতে পারবেন। এছাড়াও ব্যাক্তিগত উদ্যোগে নিজ নিজ স্থানে ঘর নির্মান করতে আগ্রহী হয়ে উঠবে অনেকেই।

গাজীপুর চর মালিক সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন বাহার বলেন, প্রতিবছরই চরে থেকে জমির মালিকগন সরকারকে খাজনা দিয়ে আসছে, চরটি বর্তমানে মানুষের বসবাসের উপযোগী। এখানে শধু আমি একা নই, চরের মালিকগন বেশ কিছু ঘর নির্মানের পরিকল্পনা নিয়েছে। খুব শিগ্রই এখানে বসতি হবে। তবে তার আগে সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দা বাশার বলেন, সরকার উদ্যোগ নিলে খুব সজইে এখানে বসতি গড়ে উঠতে পারে। এতে সরকার রাজস্ব আদায় করতে পারবে। সাধারন মানুষজনও বানস্থানের ঠিকানা খুজে পাবে।

চরের মালিকগন জানালেন, ২টি আশ্রয় কেন্দ্র, ২টি স্কুল, ৪টি টিউবওয়েল, ৩টি আশ্রয়ন প্রকল্প, বেশ কিছু গুচ্ছগ্রাম, একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা রোপন, মাটির কিল্লা স্থাপনসহ বেশ কিছু স্থাপনা নির্মান করলেই দরিদ্র ভীটাহারা মানুষগুলো বসবাস করতে পারবে। চর থেকে জেলা সদরে সময় লাগে মাত্র ৩০ মিনিট। তাই জরুরী প্রয়োজনে মানুষ আসা-যাওয়া করতে পারবে। এখানে বাসস্থান তৈরী করা খুব সহজ একটি বিষয়। এ প্রক্রিয়া চললে এক সময় আগের মতই গাজীপুর চরটি একটি পুনাঙ্গ ইউনিয়ন হিসাবে পূর্নতা পাবে।