মেইন ম্যেনু

দ্রুত আন্ত:জেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেন ভূমিমন্ত্রী

মো. আলী আশরাফ খান, দাউদকান্দি, কুমিল্লা: প্রখ্যাত ভাষা সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, ভূমিমন্ত্রী আলহাজ্ব মোঃ শামসুর রহমান শরীফ এম.পি. সারা দেশের আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করেন।

একই সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সরকারি সীমানা নির্ধারণ কাজে সহযোগিতার আহ্বানও জানান।
২ মার্চ মঙ্গলবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ ও নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলাধীন আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ প্রদান করেন।

সভায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ভূমি সচিব মেছবাহ উল আলম, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহা পরিচালক শেখ আব্দুল আহাদ, ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুয়াল হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বদরে মুনির ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন।

ভূমি মন্ত্রী শরীফ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন’। তিনি বলেন, ‘দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আন্তঃজেলা সীমানা নির্ধারণে একটি স্বচ্ছ চিত্র দাঁড় করাতে হবে’।

তিনি আরো বলেন, ‘অবশ্যই মানুষের দুর্ভোগ কমাতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সরকারের কাজে সহযোগিতা করতে হবে। প্রয়োজনে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের জনবল আবারও সীমানা পিলার বসাতে যাবেন’। তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকতা ও তাদের একান্ত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এসময় তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্র ও আইন জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে’।

উল্লেখ যে, চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার উড়িরচর এলাকার ১৯৫৪ সালের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে ৬০টি মৌজার সমন্বয়ে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ থানার আঞ্চলিক সীমানা ঘোষণা করা হয়। এ ৬০টির মাধ্যমে ৩৬ নং চরবালুয়া, ৩৪ নং চর এলাহী ও ৩৫ নং চরলেংটা ও ২৩/২৪ নং চরযাত্রা মৌজা অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এছাড়া নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১৯৩৬ সালে এবং সর্বশেষ ১৯৫৪ সালের সংশোধিত ম্যাপ অনুযায়ী ৩৬ নং চর বালুয়া, ৩৪ নং চর এলাহী, ৩৫ নং চর লেংটা ও ২৩/২৪ নং চর যাত্রা কোম্পানিগঞ্জ থানার অন্তর্গত। এ গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৪টি মৌজা কোম্পানীগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এভাবেই ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের জুরিডিকশন লিস্ট সংশোধন করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে আন্তঃজেলা বিরোধ নিষ্পত্তিসহ মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়েকৃত রিট পিটিশনগুলো নিষ্পত্তির জন্য বিজ্ঞ সলিসিটরকে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত ইতোপূর্বে নেওয়া হয়েছিল।

১৯৫৪ সালের সংশোধিত সীমানা মোতাবেক কোম্পানীগঞ্জ ও সন্দ্বীপ থানার সীমানা উভয় জেলার সীমানা হিসেবে গণ্য হবে এবং সীমানা নির্ধারণের পর এক জেলার অধিবাসীদের জমি অন্য জেলাভুক্ত হলেও জমির মালিকানা অক্ষুন্ন থাকবে জমির মালিকানায় কোন হেরফের হবে না মর্মে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।