মেইন ম্যেনু

দ্রুত ওজন কমাতে চাইলে প্রতিদিন পেটপুরে খাবেন এই খাবারগুলো!

শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে আমরা সবাই খুব দুশ্চিন্তায় থাকি, কিন্তু ঠিক কীভাবে কমাতে হবে বা কোন উপায়ে কমবে তা আমরা অনেকেই জানি না। দ্রুত শরীরের ওজন কমানোর প্রথম শর্ত হচ্ছে সঠিক খাবার খাওয়া, সেই সাথে নিয়ন্ত্রিত একটি খাবার তালিকা অনুসরণ ও শারীরিক ব্যায়াম থাকবে প্রতিদিনের কাজের তালিকায়। ওজন কমানো কোন সহজ কাজ নয়। এজন্য প্রয়োজন দৃঢ়সংকল্প, ইতিবাচক মনোভাব ও কিছুটা শারীরিক পরিশ্রম।

তাই যদি কেউ স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমাতে চান, তাহলে অনেক ধরনের সাশ্রয়ী খাবার রয়েছে যা আপনাকে আপনার উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সাহায্য করবে। এসব সাশ্রয়ী খাবারে রয়েছে উচ্চ পরিমানে খাদ্য আঁশ, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। ওজন কমাতে সহায়ক বেশির ভাগ খাবার গুলো ক্ষুধা কমিয়ে পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয় ফলে বেশি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় এসব খাবার রাখার সাথে সাথে প্রচুর পানি ও গ্রীন টি খেলে শরীর আর্দ্র থাকবে। অন্য দিকে এসব স্বাস্থ্যকর ও সাশ্রয়ী খাবার গুলো অস্বাস্থ্যকর ও দামী খাবার গুলো থেকে দূরে রেখে আর্থিক ভাবে লাভবান করবে আপনাকে।

তাহলে চলুন জেনে নিই সেই খাবার গুলো সম্পর্কে-

আপেল
আপেল হচ্ছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খাদ্যআঁশ সমৃদ্ধ কম ক্যালরি যুক্ত একটি খাবার। এই ৩টি উপাদান দেহের ওজন কমানোর সাথে সাথে দেহকে শক্তি প্রদান করে।

ওটস
ওটসে থাকা শর্করা সেরোটোনিন নামক হরমোনকে দেহ থেকে বের হতে সাহায্য করে। এই হরমোন মূলত ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে। তাই এই খাবারটি সকালের নাস্তায় রাখা উচিত।

দই
দুগ্ধ জাতীয় খাবার গুলোর মাঝে দই খুব সহজে হজম হয়। দুধ ও পনিরের তুলনায় ওজন কমানোর খাবার গুলোর মাঝে দই তুলনামূলক ভাবে সাশ্রয়ী। দই দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় এবং ক্ষুধার অনুভূতি থেকে দূরে রাখে।

ডালিম
প্রচুর আয়রন সমৃদ্ধ ফল হচ্ছে ডালিম।এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফলিক এসিডে ভরপুর যা ওজন কমানোর জন্য ও শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকার জন্য শক্তির যোগান দেয়।

ডাল জাতীয় খাবার
এই সাশ্রয়ী খাবার গুলোতে থাকে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন যা দেহের বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং ওজন কমানোর জন্য ঔষধের মত কাজ করে।

তরমুজ
যদি দ্রুত ওজন কমাতে চান তাহলে প্রতিদিন তরমুজ খান। এই ফলটিতে ৯২% পানি রয়েছে। তরমুজে থাকা লাইকোপিন প্রাকৃতিক ভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

তিসিবীজ
প্রতিদিন যদি ১ চা চামচ করে তিসিবীজের গ্রো খেতে পারেন তাহলে ১ মাসে অনেকটা ওজন কমাতে পারবেন। তিসিবীজে থাকা অমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড এবং প্রচুর খাদ্য আঁশ ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে এবং শারীরিক ভাবে ভাল রাখে।

মাশরুম
এই খাবারটিও বেশ প্রোটিন সমৃদ্ধ।এটি এতোটাই পুষ্টি সমৃদ্ধ যে এটি মুরগির মাংসের বদলেও খাওয়া যায়। পোলাও বা সবজির সাথে এটি খেতে পারেন।

মরিচ
বিশেষজ্ঞদের মতে ঝাল উপাদান দেহের ওজন দ্রুত কমাতে সাহায্য করে। কাঁচা মরিচ ওজন কমানোর জন্য একটি আদর্শ সুপার ফুড।এছাড়া গোলমরিচও ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে।

তোকমা
তিসিবীজের মত এটিও ওজন কমানোর একটি সাশ্রয়ী খাবার।এটি প্রোটিনে ভরপুর যা ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে, খুব দ্রুত পেট ভরার অনুভূতি আনে এবং খাবার ইচ্ছেকে কমিয়ে দেয়।

জোয়ার
এটি গম, বার্লি ইত্যাদির মতোই একটি খাদ্য শস্য। তবে তুলনা মূলক ভাবে চাল বা গমের চেয়ে দামে সাশ্রয়ী এটি এবং ওজন কমাতে সহায়ক। এটি আয়রন, প্রোটিন ও খাদ্য আঁশে ভরপুর যা শরীরকে ভাল রাখতে সাহায্য করে।

ডিম
ডিমে থাকে সর্বোচ্চ প্রোটিন। তাই ওজন কমাতে প্রতিদিন একটি করে ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। এছাড়া এতে থাকে ভাল কোলেস্টেরল যা হৃদ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

করল্লা
সাশ্রয়ী এই সবজিটিও দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে।এই সবজির আর একটি ভাল দিক হচ্ছে এটি কম ক্যালরি যুক্ত।

লেখক-
শওকত আরা সাঈদা(লোপা)
জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ
এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান(স্নাতকোত্তর)(এমপিএইচ)