মেইন ম্যেনু

ধর্মভিত্তিক রাজনীতিই সংখ্যালঘু নির্যাতনের কারণ

রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকতে পারে না উল্লেখ করে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বলেছেন, রাষ্ট্র যতদিন ধর্মের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে না পারবে, ততদিন নাসিরনগর বা রামুর মতো সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহতই থাকবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়ি-ঘর-মন্দিরে হামলা কিংবা রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনায় মূলত ধর্মকেই কাজে লাগানো হয়েছে বলে মনে করেন তারা।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘ধর্মভিত্তিক রাজনীতির চর্চাই যে সাম্প্রতিক সময়ে এসব হামলার কারণ; সেটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই কথাটাই একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি অনেকদিন ধরেই বলে আসছে। ৭২ সালের সংবিধানে ধর্মকে রাষ্ট্র ও রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিলো। রাষ্ট্রের রাজনীতিতে ধর্মের কোনো অবস্থান ছিলো না। কিন্তু ৭৫ পরবর্তী সময়ে জিয়া সরকার ক্ষমতায় এসে আবার সেই ধর্মকেই রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনলেন। আর তার ফলেই একটি মূল্যবোধ সম্পন্ন, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রকে আমরা হারাতে বসলাম।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘ঐ সময়ে যে বিষবৃক্ষ জিয়া পুঁতেছিলেন সেটার মাশুল পুরো দেশ এখনো দিচ্ছে। তারপরেই রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করলো জামায়াত। তাদেরতো লক্ষ্যই ছিলো বাংলাদেশকে হিন্দুশূন্য করা এবং এদেশকে পাকিস্তানের মতো ধর্মভিত্তিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেটাই কিন্তু এখন হতে যাচ্ছে। হলে আর্টিজানের হামলা বা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হামলা সেই পরিস্থিতিরই বহি:প্রকাশ। কোনো একটি স্বার্থ চরিতার্থ করতে এসব মানুষ ধর্মকে কাজে লাগাচ্ছে তার পর একজন দরিদ্র ও অশিক্ষিত মানুষকে বলির পাঁঠা বানিয়ে এসব অন্যায় সংঘটিত করছে।’

প্রায় একই রকম মন্তব্য করে নারী বিষয়ক ওয়েব পোর্টাল উইমেন চ্যাপ্টারের সম্পাদক সুপ্রীতি ধর বলেন, ‘বারবার এই ধরনের হামলা হওয়ার পেছনে যতগুলো কারণ রয়েছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি সেগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি কারণ। ৭২ এর সংবিধানের ফলে দেশের পরিস্থিতি কেমন হতো সেই অবস্থা আমরা দেখতে পাইনি। কিন্তু ৭৫ এর পরে গিয়ে ধর্মকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আর বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে যতগুলো রাজনৈতিক দলই আসছে সবাই ধর্মকে কেন্দ্র করেই রাজনীতি করছে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের মানুষের দ্বারা সংখ্যালঘু ধর্মের মানুষরা নির্যাতিত হলেও রাজনীতি কখনো সেই সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মপ্রাণ

ব্যক্তিদের বিপক্ষে যাচ্ছে না। কারণ তাতে ভোট হারানোর সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু রাষ্ট্রের আবার ধর্ম কি? রাষ্ট্রতো প্রতিটা ধর্মের মানুষের জন্যই। তবে এখন শুধু ভিন্ন ধর্মের হলেই তাকে সংখ্যালঘু বলা হয়না, ভিন্ন মতের হলেও সে সংখ্যালঘু। সমস্ত ধর্ম-বর্ণ-জাতি মিলেই তো বাঙালি। সেখানে ধর্ম যদি বাঙালিয়ানাকে গ্রাস করে ফেলে তাহলে এমন ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।’

এ সমস্যার সমাধানে দুজনেরই মত ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার দিকে। সেজন্য শাহরিয়ার কবির বলেন, বাংলাদেশে ধর্মের নামে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। তা না হলে এসব সন্ত্রাসবাদ ও হত্যাকাণ্ড চলতেই থাকবে।

সুপ্রীতি ধর মনে করেন, দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যেমন নিষিদ্ধ করতে হবে। তেমনই মানসিকতা তৈরি করতে হবে দেশের সংবিধান পালনের দিকে। এদেশে সবধর্মের মানুষের অধিকার সমান। দেশের আইনও সবার জন্য সমান। আমার পড়শী যখন ঘর পুড়িয়ে দেওয়ায় রাস্তায় বাস করছেন তখনও আমি কোনো কথা বলছিনা। কেন এই বিদ্বেষ? দেশে তাহলে এখন কোন তন্ত্র চলছে। এটা তো গণতন্ত্র নয়, তাহলে কি ধর্মতান্ত্রিক রাজনীতিই এটা।সূত্র : চ্যানেল আই অনলাইন।



« (পূর্বের সংবাদ)