মেইন ম্যেনু

ধর্মশালায় এক টুকরো বাংলাদেশ

ধর্মশালা হিমাচল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের স্টেডিয়াম পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ক্রিকেট মাঠ বলে পরিচিত।

এখানেই বাংলাদেশ খেলছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। কনকনে হিমেল হাওয়ায় ব্যাট-বলের লড়াই দেখাটা খুবই উপভোগ্য। পুরো স্টেডিয়ামটিই হিমালয়ের বরফের পাহাড়ে ঢাকা।

বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস এর ম্যাচ শুরুর আগে ধর্মশালায় ‘বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’ বলে চিৎকার। অবাক হওয়ার মত কোনো কিছুই নয়। কারণ বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেট সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েন (বিসিএসএ) দলবল নিয়ে বাংলাদেশকে উৎসাহ যোগাতে চলে এসেছে ভারতের ধর্মশালায়। এসেছে ‘টাইগার’ শোয়েবও।

কিন্তু ‘বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’ বলে ওই চিৎকার বিসিএএস’ দলের ছিল না। ছিল হিমালয় প্রদেশের সিমলা এপিজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭ শিক্ষার্থীর। যারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি। সিমলার শীর্ষ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ৩৭ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনা করে আসছেন।

ধর্মশালায় বুধবার বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দেখতে ৩৭ বাংলাদেশ শিক্ষার্থী ১০ ঘন্টা ভ্রমণ করেন সিমলা থেকে। কথা বলে জানা গেল ক্রিকেটার ও বাংলাদেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে দীর্ঘভ্রমণে ক্লান্তি নেই তাদের।

সিলেটের দিপীকা তালুকদার তুলি বলেন,‘সিলেটে আমার বাড়ী। প্রায় দুই বছর হল সিমলায় আছি। পুরো রাত জার্নি করে এখানে এসেছি শুধুমাত্র বাংলাদেশের খেলা দেখব বলে। অনেক ‘এনার্জি’ নিয়ে এসেছি শুধু বাংলাদেশকে উৎসাহ জানাতে। বাংলাদেশকে আজ জিততেই হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সৌরভ শুভ বলেন,‘আমার বাসা মিরপুর স্টেডিয়ামের উল্টোদিকে (মিরপুর সাড়ে ১১)। বাংলাদেশের খেলা অনেক উপভোগ করছি। বাংলাদেশ যখনই খেলে আমরা দূর থেকে বসে ওদের জন্যে অনেক দোয়া করি। আমাদের ক্যাম্পাসে যখন খেলা হয় তখন আমরা ভারত ও অনান্য দেশের শিক্ষার্থীর সঙ্গে বসে খেলা দেখি। দেশের প্রতি কতটা টান, কতটা ভালোবাসি তখন বোঝা যায়।’

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ-ভারতের ফাইনাল ক্যাম্পাসে বসে দেখেছিলেন এ শিক্ষার্থীরা। জানালেন এশিয়া কাপের অভিজ্ঞতা,‘এশিয়া কাপ বাংলাদেশ খুবই ভালো খেলেছে।পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মত দলকে আমরা হারিয়েছি। যদি বিশ্বের মধ্যে কাউকে ‘হাইলাইট’ করতে হয় তাহলে আমাদের দেশকেও করতে হবে।’

তবে আজ রাতেই ধর্মশালা ছাড়তে হচ্ছে ৩৭ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর। ইচ্ছে থাকলেও পরীক্ষার কারণে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচগুলো দেখা হচ্ছে না তাদের।

‘বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’ বলে চিৎকার ও জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বিদেশের মাটিতে নিজ দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা খুব কঠিনই বটে। সেটাও আবার আট-দশ ডিগ্রির ঠাণ্ডায়! ক্রিকেট আর ক্রিকেটারের জন্যে তাদের সেই উৎসাহ-উদ্দীপনার নূন্যতম কমতি নেই।