মেইন ম্যেনু

ধর্ষিতার গর্ভের শিশু ধর্ষকের সম্পত্তির ভাগ পাবে : আদালত

ধর্ষিতার গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশু ধর্ষকের সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবে। এছাড়া সন্তানের বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত তার সমুদয় ভরণপোষনের দায়িত্বও ধর্ষক বহন করবে। বুধবার বিকালে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এই রায় দিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্ভবত এটাই এ সংক্রান্ত প্রথম রায়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ফেনী-২ এর বিচারক অতিরিক্ত দায়রা জজ নিলুফার সুলতানা এই রায় ঘোষণা করেন।

এক দশক আগে ফেনীতে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে ধর্ষক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুকে দেওয়া হয়েছে ধর্ষকের সম্পত্তির উত্তরাধিকার।

আদালতের এপিপি ফরিদ আহম্মদ হাজারী এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ফেনীর আদালতে ধর্ষণ মামলায় শিশুকে সম্পদের অংশীদার করার রায় এই প্রথম।

দণ্ডপ্রাপ্ত তৌহিদুল আলম সোহেল সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে। মামলার শুরু থেকেই তিনি পলাতক।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী আসামি সোহেলকে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর তিন আসামি খালাস পেয়েছেন।

এপিপি ফরিদ আহম্মদ হাজারী আরও জানান, ধর্ষণের অভিযোগ এবং এর ফলে শিশুর জন্মের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বর্ণিত বিধি অনুযায়ী শিশুকে আসামির সম্পত্তির ওয়ারিশ ঘোষণা করেছেন।

এ আইনের ১৬ ধারায় বলা হয়েছে- ট্রাইব্যুনাল অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিলে এবং ওই অর্থ তার বিদ্যমান সম্পদ থেকে আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামি যে সম্পদের মালিক বা অধিকারী হবেন তা থেকে আদায় করা যাবে এবং সেক্ষেত্রে ওই সম্পদের ওপর অন্যান্য দাবির চেয়ে দণ্ড বা ক্ষতিপূরণের দাবি প্রাধান্য পাবে।

আসামিপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান।

মামলার নথির বরাত দিয়ে এপিপি ফরিদ হাজারী জানান, ২০০৬ সালের ২০ আগস্ট তৌহিদুল আলম সোহেল তার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ফুফাতো বোনকে ধর্ষণ করে। ওই ঘটনার পর মেয়েটি সোহেল, তার দুই ভাই ও বোনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ধর্ষণের ফলে তিনি অন্তঃস্বত্ত্বা হন এবং সন্তানের জন্ম দেন।