মেইন ম্যেনু

ধানমন্ডি থেকে সোহরাওয়ার্দী উৎসব আর অস্থিরতা

আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন। কাউন্সিলকে সামনে রেখে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে। সাজ-সাজ রবে সেজে উঠছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানও। তবে উৎসবের পাশাপাশি একটা চাপা অস্থিরতাও বিরাজ করছে নেতাকর্মীদের মাঝে। দলে পদ-পদবী পাওয়া না পাওয়া নিয়ে সবাই একটা অস্থিরতার মাঝে আছেন।খবর জাগো নিউজের।

আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্মেলন উপলক্ষে কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের পদচারণা বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে নেতাকর্মীরা দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসেন। সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যান অনেকেই। নেতারা সন্ধ্যার পর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলীয় প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে যান। রাত ১০টা কোনো কোনো দিন রাত ১২টা পর্যন্ত ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা থাকেন।

এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে পুরো ঢাকা শহরকে সাজানো হচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুরোদমে কাজ চলছে। সম্মেলনের মঞ্চ, প্যান্ডেলসহ নানা কর্মকাণ্ড পরিদর্শনে প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় নেতারা আসেন উদ্যানে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখোরিত থাকে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

চারদিকে সাজ-সাজ রব থাকলেও একটা চাপা অস্থিরতা কাজ করছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, ‘দলে পদ-পদবী পাওয়া না পাওয়া নিয়ে সবাই একটা অস্থিরতার মাঝে আছেন।’

এই অস্থিরতার কথা জানা যায় দলটির কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকদের কাছ থেকেও। সহ-সম্পাদকদের অনেকেই প্রায় প্রতিদিন দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে থাকেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সহ-সম্পাদক বলেন, ‘শুনলাম এবার নেত্রী সহ-সম্পাদক নির্ধারণ করবেন। আমরা থাকবো কী থাকবো না এ নিয়ে দু:শ্চিন্তায় আছি।’

দলীয় সম্মেলনকে ঘিরে অস্থিরতার বাইরে নেই সাবেক ছাত্র নেতারাও। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও তিন ডজন নেতা মূল দলের পদ-প্রত্যাশী। আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে সাবেক ছাত্র নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে এই প্রত্যাশায় দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এই সাবেক নেতারা।

ছাত্রলীগের ‘সাবেক কারা’ এ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক এক নেতা নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘সাবেক কিন্তু শুধু ২০০৬ সালে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে যারা বিদায় নিয়েছেন তারাই নন। ২০১১ এবং ২০১৫ যারা সংগঠন থেকে বিদায় নিয়েছে তারাও সাবেক, তাদের দলের জন্য অনেক ত্যাগ রয়েছে তাদেরও ছাত্ররাজনীতি ১/১১ মতো গৌরবউজ্বল ইতিহাস রয়েছে।’

অপরদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে বাদ পড়া সংক্রান্ত সংবাদে বিব্রত হচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সম্পাদকমণ্ডলীর প্রভাবশালী একজন সদস্য বলেন, ‘গণমাধ্যমে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হলে নেতারা বিব্রত হন। রাজনীতি একটা কল্যাণমূলক কাজ। দলীয় পদ হারাবেন এমন সংবাদ পেলে নিজের মধ্যেই অস্থিরতা কাজ করে, তখন ওই নেতা আর কল্যাণমূলক কাজে মনোযোগী হতে পারেন না। ’