মেইন ম্যেনু

ধানের তুষে ফুটেছে হাঁসের বাচ্চা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এই প্রথম ধানের তুষ দিয়ে ফুটিয়েছে হাঁসের বাচ্চা।

জার্মান সংস্থা জেআইজেডের অর্থায়নে বেসকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কারিগরী সহয়তায় উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের বাদুরতলী গ্রামে একটি ছাগলের খামারে পরীক্ষামূলকভাবে তুষ ব্যবহার করে হাঁসের বাচ্চা ফুটানো হয়েছে। শুরুতেই বিকল্প পদ্ধতিতে ২শ হাঁসের ডিম দিয়ে ১শ ৪০টি বাচ্চা ফুটিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। এ পদ্ধতির সফলতা দেখতে প্রতিদিন উৎসুক লোকেরা ওই খামার বাড়িতে ভিড় করছে।

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা (প্রাণি সম্পদ) বিধান চন্দ্র কুলু (হৃদয়) জানান, কোন প্রকার যন্ত্রের সহায়তা ছাড়া এ প্রক্রিয়ায় বাঁশ, ধানের তুষ, গরম সুতি কাপড় ও হেরিকেন ব্যবহার করা হয়।

এ পদ্ধতিতে প্রথমে বাঁশ দিয়ে চাহিদামত সাইজের তৈরি সিলিন্ডারের ভিতরে ধানের তুষ কেরোসিনের কুকার জ্বালিয়ে গরম করে তার ভিতরে ডিমগুলো রাখা হয়। সমভাবে তাপ প্রয়োগ করার জন্য প্রতি ৪/৫ ঘণ্টা অন্তর ডিমগুলোকে উপর নিচ করে নাড়াচাড়া করতে হয়। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ওই ডিমগুলো ঠাণ্ডা করার জন্য কিছু সময় বাহিরে রাখে। এ প্রক্রিয়া ৯/১০ দিন পর্যন্ত চলে। ডিমের ভিতর ভ্রুণ তৈরি হলে এগুলোকে গরম সুঁতি কাপড়ে পেঁচিয়ে আবার বাঁশের তৈরি সিলিন্ডারে ওই তুষের মধ্যে রাখা হয়। এ সময় সিলিন্ডারের সঙ্গে হেরিকেন জ্বালিয়ে তাপমাত্রা ঠিক রাখা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রায় ২৫/২৬ দিন পরে সাধারণত ডিম ফুটে হাঁসের বাচ্চা বের হয় বলে তিনি জানান।

তুষ পদ্ধতিতে হাঁসের বাচ্চা ফুটানো দেখতে আসা অরুণ পাল জানান, কম খরচে একসঙ্গে অনেকগুলো বাচ্চা ফুটানো এ পদ্ধতি খুবই ভালো। পেশা হিসাবে এ পদ্ধতিতে হাঁসের বাচ্চা ফুটানো হলে এ এলাকার বেকার সমস্যা দূর হবে বলে তিনি মনে করেন।

ওয়েব ফাউন্ডেশন কলাপাড়ার প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, জার্মান সংস্থা জেআইজেড এর কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যাডাপ্টেশন প্রকল্পের মাধ্যমে ওয়েভ ফাউন্ডেশন এ কার্যক্রম শুরু করে। উপকুলীয় অঞ্চলে জীবীকায়ন ও অভিযোজন প্রকল্পের আওয়াতায় পরীক্ষামূলকভাবে এটি করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সফলতা পেলে সদস্যদের মাঝে চালু করা হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইমরুল ইসলাম জানান, এটা দেশীয় পদ্ধতি। ধীরে ধীরে করলে সফলতা লাভ করা যায়। এক্ষেত্রে যথেষ্ট দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও ধৈর্য্য থাকা প্রয়োজন।