মেইন ম্যেনু

‘ধানের শীষকে পরাজিত দেখাতে তড়িঘড়ি’

বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষকে ‘পরাজিত দেখাতে’ সরকার তড়িঘড়ি করে দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচনের আয়োজন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) দ্বিবার্ষিক সভায় তিনি বলেন, ‘ধানের শীষ সবচেয়ে জনপ্রিয় নির্বাচনী প্রতীক। এই প্রতীককে পরাজিত দেখাতে পারলে অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। সেজন্য প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হওয়া এই পৌর নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট তড়িঘড়ি করা হয়েছে।’

দেশে ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার’ অংশ হিসেবে বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ না নিলেও বলা হত, বিএনপি নির্বাচন বর্জন করা জঙ্গি ও সন্ত্রাসী দল। বিদেশিরা আবার সেটি বিশ্বাসও করত।’

রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এই দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার।

পৌর নির্বাচন দিয়ে বিএনপি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চায় জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি। আন্দোলনের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

নতুন চেহারায় দেশে সুপরিকল্পিতভাবে একদলীয় শাসন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে দাবি করে সব ‘গণতান্ত্রিক শক্তিকে’ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

এখন সমস্ত গণতান্ত্রিক দল ও শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করা খুবই জরুরি বলে জানান তিনি।

দেশে সম্প্রতি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। দেশে যখন গণতন্ত্র না থাকে তখন সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদের আশঙ্কা থাকে। সেজন্য এই মুহূর্তে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অর্থবহ নির্বাচন প্রয়োজন।’

আইএস প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থানকে স্ববিরোধী অভিহিত করে তিনি বলেন, তারা (সরকার) এক দিকে বলছে, দেশে আইএস নেই। আবার কিশোরগঞ্জ থেকে চার তরুণকে গ্রেফতারের পর আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাদের বিচার কাজ চালানো হচ্ছে। এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপিকে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল দাবি করে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘গণমাধ্যমে এই দলের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হয় না। অনেকক্ষেত্রে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যও অনাগ্রহ নিয়ে পত্রকার পেছনের দিকে প্রকাশ করা হয়।’

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে দাবি করে তিনি সাংবাদিকদের ন্যায় ও সত্যের পথে থেকে তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বক্তব্য রাখেন।