মেইন ম্যেনু

ধুর ছাই মন্ত্রী!

পুলিশের অনর্গল হুইসেল শুনলেই কিছু একটা বুঝে ফেলে মানুষ। শহর কিংবা সড়ক-মহাসড়কে এমন শব্দ পেলেই পথচারীরা নিশ্চিত হন মন্ত্রী আসছেন। তৎক্ষণাৎ ফাঁকা হয়ে যায় সড়ক। দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হন অনেকেই।

এটাই বাংলাদেশের সাধারণ ও নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। আর মন্ত্রীকে নির্বিঘ্নে সড়ক পার করে দিতে কতই না তৎপরতা দেখায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বেমালুম ভুলে যান সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা।

রিকশা থেকে শুরু করে সাধারণ গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সকে অযথা আটকে রাখা হয় সড়কে। কাকুতি মিনতি করেও ছাড় নেই। যতক্ষণ না মন্ত্রী পার হয়ে যান ততক্ষণ হা করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো করার নেই কারো।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির আগমন ঘিরে রোববার বিকেলে এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হতে হয়েছে ফেনীর মহিপালের লোকজনকে।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সেতুমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ফিরছিলেন। তার আগমনের ঘণ্টা খানেক আগে থেকেই অতিতৎপরতা শুরু করে হাইওয়ে পুলিশ।

রিকসা১মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ফেনীর মহিপাল জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেয় হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা। ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের চোখে আটকে যায় দুটি রিকশা। কোনো অপরাধ ছাড়াই রিকশা দুটি আটক করা হয়। এরপর সেগুলো উল্টে দিয়ে মহাসড়কে যান চলাচাল বন্ধ রাখা হয়।

মন্ত্রী আসার ঘণ্টা খানেক আগে থেকেই উল্টোনো হয় রিকশা দুটি। এসময় অসহায় হয়ে বসে থাকতে দেখা যায় দুই চালককে। দৃশ্যটি শিশুদের কাছে বেশ উপভোগ্য হলেও সচেতন মহল হয়েছে ক্ষুব্ধ।

অসহায় চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ধুর ছাই, মন্ত্রী আসছে জানলে কি আর এ রাস্তায় আসতাম।’

উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিক্সলেন ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে রোববার বিকেলে ফেনীর মহিপালে আসেন সেতুমন্ত্রী ওয়াবদুল কাদের এমপি।