মেইন ম্যেনু

ধূমপান করায় ছাত্রীর গায়ে হাত

ধূমপান করায় নিগ্রহের শিকার হলেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। আত্রেয়ী মুখোপাধ্যায় নামে ওই ছাত্রী জানিয়েছেন, শুধু তাকে হুমকি নয়, তার গায়ে হাতও তোলা হয়েছে। এসময় তার সঙ্গী পৃথ্বীরাজ সেনগুপ্তকে মারধরও করা হয়। স্থানীয় নেতাজিনগর থানায় এ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

গত শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। আত্রেয়ী জানান, রাত ৯টার দিকে নেতাজিনগরের গান্ধী কলোনি এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রেসিডেন্সিরই ছাত্র পৃথ্বীরাজ। ওই সময় ছয়জন সরকার দলীয় সমর্থক তাদের পথ আটকে দাঁড়ায়। ওদের মধ্যে একজন ধূমপানরত আত্রেয়ীকে সিগারেট ফেলে দিতে বলেন। এমনকী, সিগারেট না ফেললে তাদের ওখান থেকে যেতে দেয়া হবে না বলে হুমকিও দেয়া হয়।

আত্রেয়ীর দাবি, ওই যুবক তখন সম্পূর্ণ মত্ত অবস্থায় ছিলেন। আত্রেয়ী বলেন, ‘আমরা ওদের পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলে ওই ছেলেটি পৃথ্বীরাজকে মারতে শুরু করে। আমি ওকে আড়াল করে দাঁড়াতেই অকথ্য গালিগালাজ করতে শুরু করে ওই যুবকেরা। এরপর আমাকেও ধাক্কা মারে। এমনকী, আমাদের ছবি তুলতেও শুরু করে। বলতে থাকে, আমরা নাকি দেশের সংস্কৃতি নষ্ট করছি। অশ্রাব্য ভাষায় আমাদের গালিগালাজ করছিল ওরা।’

ইতিমধ্যে আশপাশের লোকজন এসে পড়েন। তারাই ওই ছয় যুবককে আটকান। একইসঙ্গে তারা আত্রেয়ীদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। তখনও ওই ছয় যুবক গালিগালাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এরপর আত্রেয়ী ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। পরে নেতাজিনগর থানায় তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে তার বক্তব্য, অভিযোগ নেয়া নিয়ে থানায় পুলিশকর্মীরা টালবাহানা শুরু করেন। আদৌ তিনি অভিযোগ জানাতে চান কি না, তা বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়। পৃথ্বীরাজকে যে মারা হয়েছে, সে বিষয়ে কী প্রমাণ আছে তাও জানতে চাওয়া হয়। আর এ কারণে অভিযোগ দায়ের করতে প্রায় ভোর হয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, আত্রেয়ী ছয় অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের বিরুদ্ধে কটূক্তি এবং হুমকির অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও শনিবার রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হননি।