মেইন ম্যেনু

ধোনি বিষণ্ণতায় ভুগছেন!

ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি কদিন ধরেই বিষণ্ণতায় ভুগছেন। তাকে আর কোনো কিছুতেই উচ্ছ্বসিত হতে দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি ভাবাচ্ছে অনেককেই। ভাবাচ্ছে সতীর্থদেরও। কারো এমন মনোভাব, দল হেরেছে তো এমন কী হয়েছে, খেলায় হারজিত তো থাকতেই পারে। আবার কেউবা সুযোগ পেলেই সহমর্মিতা জানিয়ে বেদনাভারকে বাড়িয়ে তুলছেন আরো। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় ক্রীড়া সাংবাদিকরা তো এক পা এগিয়েই থাকেন। বাগে পেলেই এমন সব প্রশ্ন করে বসেন, যাকে প্রশ্ন না বলে বন্দুকের গুলিও বলা যায়।

সেই ভারতীয় সাংবাদিকরাই ফাঁস করল ধোনির বিষণ্ণ রোগের কথা। রোববার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হারার পর টিম হোটেলে ঢুকে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি সেই যে নিজের রুমে ঢুকেছেন, সোমবার গোটা দিনেও নাকি আর বের হননি। এমনকি ব্রেকফাস্ট টেবিলেও তাকে দেখা যায়নি। লাঞ্চও রুমে নিয়েছেন। বাইরে বের তো হনইনি, টিম মিটিং বা বিপর্যয়ের কাটাছেঁড়া সবকিছুতেই নাকি ভারত অধিনায়ক ছিলেন চরম নিস্পৃহ। তবে এ জন্য কোনো দাওয়াই বা চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কি না, তার কিছুই জানায়নি ওই ভারতীয় সাংবাদিক।

আজকের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়, মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে নাকি এতটা বিষণ্ণ কখনো দেখায়নি। টিম হোটেলের ঘরগুলোকে নাকি মনে হয় ‘নিঃসঙ্গ দ্বীপপুঞ্জ’। পরিস্থিতিটা সেদিনের এ রকম যে, রবি শাস্ত্রীকেও সন্ধ্যা পর্যন্ত কোথাও দেখা যায়নি। রোববারের হারের পর থেকেই চুপসে গেছেন টিমের আবেগের মুখ বিরাট কোহলিও। ড্রেসিংরুমে শাস্ত্রীর উদাত্ত বক্তৃতা নেই, প্লেয়ারদের চাঙা রাখতে তার ডিনার স্পনসর নেই। টিমকে নিয়ে তার কোনো খবরই নেই। এমন একটি পরিস্থিতিতে ধোনি-ই নাকি সবচেয়ে বেশি মুহ্যমান।

রোববার রাতে নাকি সংবাদ সম্মেলন পর্ব মিটে যাওয়ার পরেও টিমকে টেনে ওঠানো যাচ্ছিল না। বাস পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার শক্তিও ছিল না কারও। ‘রাত হয়ে যাচ্ছে’ বলে-টলে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় টিমকে বাসে তোলা হয়। আর ধোনি উঠে চলে যান একদম শেষ সিটে। বসে পড়েন নিঃশব্দে। পাশে কেউ ছিল না। ধোনিও কাউকে আর ডাকেননি।

এই হারটা নাকি শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে ভারত অধিনায়ককে। হারের পর একটা বার্তাই নাকি দিয়েছিলেন টিমকে। বলে দিয়েছিলেন, সব দায় আমার। তোমাদের ভাবার কিছু নেই। সংবাদ সম্মেলনে যাওয়ার আগে টিম ম্যানেজারকেও বলে দেন, আমি যাব কথা বলতে। আর আমি একাই যেতে চাই। পারব ম্যানেজ করে নিতে। টিম ম্যানেজমেন্ট চিন্তায় ছিল যে, এবার আগ্নেয়গিরির মুখে পড়তে হবে। কিন্তু ধোনিকে আটকানো যায়নি।

সবচেয়ে কঠিন সত্য এই যে, মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে এত যন্ত্রণার পরেও আরো একটা ম্যাচ খেলতে হবে। আরো একবার দেখা করতে হবে মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে।