মেইন ম্যেনু

নকল করতে বাঁধা: শিক্ষকের মাথা ইট দিয়ে থেঁতলে দিলেন পরীক্ষার্থীর বাবা

এসএসসি পরীক্ষায় নকলে বাঁধা দেয়ায় শিক্ষককে ইট দিয়ে পিটিয়ে মাথা থেঁতলে দিয়েছে পরীক্ষার্থীর বাবা ও তার দু’সহযোগী। এ ঘটনায় আটক তিনজনের বিরুদ্ধে রবিবার রাতে মামলা দায়েরের পর সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার বানারীপাড়া উপজেলার চৌয়ারীপাড়া হাসিনা মোর্শেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক সাহিনা বেগম জানান, শান্তা আক্তার নামের বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে রবিবার পরীক্ষা চলাকালীন সময় নকলে বাঁধা দেয় গণিতের শিক্ষক পরিদর্শক হরিচাঁদ মন্ডল। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিক্ষার্থীর পিতা বানারীপাড়া পৌরসভার স্টাফ হুমায়ুন কবির শরীফ ও তার সহযোগী কামাল হোসেন ও নাঈম হোসেন সাদ্দাম দুপুরে কেন্দ্রে প্রবেশ করে গণিতের শিক্ষক হরিচাঁদ মন্ডলের ওপর অর্তকিতভাবে হামলা চালায়।

একপর্যায়ে ইট দিয়ে পিটিয়ে ওই শিক্ষকের মাথা থেঁতলে দেয়া হয়। অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হরিচাঁদ মন্ডলকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাদেরকেও লাঞ্ছিত করে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ধাওয়া করে তিন হামলাকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেন। শিক্ষক হরিচাঁদ মন্ডলকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

প্রধানশিক্ষক সাহিনা বেগম আরও জানান, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে ওইদিন রাতে আটককৃত তিন জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

শিক্ষার্থীর পিতা আটক হুমায়ুন কবির শরীফ জানান, পরীক্ষা চলাকালীন সময় পরিদর্শক হরিচাঁদ মন্ডল তার মেয়ে শান্তা আক্তারের কাছে মোবাইল নম্বর চাওয়াসহ যৌণ হয়রানি ও নকল দিয়ে বহিষ্কার করার হুমকি দেয়। তিনি পরীক্ষা শেষে বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে শিক্ষক হরিচাঁদ তার সাথে দুর্ব্যবহার করেন।