মেইন ম্যেনু

নগ্ন ছবির বিনিময়ে ঋণ দিচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঋণ দেয়া ক্ষেত্রে আছে নানা রকম নিয়ম। আছে সুদের হারের পার্থক্য। তবে এবার ঋণ দেয়া ক্ষেত্রে অদ্ভূত এক নিয়ম চালু হয়েছে চীনে। অনলাইন ছাত্রীদের দেয়া হয় এই ঋণ। তাদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে রাখা হয় তাদের নগ্ন ছবি। এই ঋণের নাম ‘নগ্ন ঋণ’।

মোটা অঙ্কের ঋণের বিনিময়ে জোর করে কলেজ ছাত্রীদের থেকে হয় তাদের নগ্ন ছবি। ঋণ শোধ করতে না পারলে সেই ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশ করে দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিচ্ছে অনলাইন ঋণদাতারা। এদিকে এই ঘটনার নিন্দা করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে চীনে।

দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি ঋণ পাওয়ার এই শর্তে রাজি হয়ে ঋণদাতাদের নিজেদের নগ্ন ছবি পাঠিয়েছেন কলেজের বেশ কয়েকজন ছাত্রী। ছবিতে তাদের হাতে তুলে ধরা ছিল তাদের পরিচয় পত্র। এই ছবি পাঠিয়ে স্বাভাবিক যে পরিমাণ ঋণ পাওয়া যায় তা থেকে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি ঋণ পেয়েছেন তারা। সময়মতো ঋণ শোধ না করলে ওই ছবি প্রকাশ করে দেবেন বলে হুমকি দিয়েছে ঋণদাতারা।

চীনের জিয়েদাইবাও নামের একটি ওয়েবসাইট থেকে দেয়া হচ্ছে এই ঋণ। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি সুদের বিনিময়ে টাকা ঋণ দিয়ে থাকে। এই সাইটের কিছু অনলাইন ঋণদাতাই এই ‘নগ্ন ঋণ’ দান শুরু করেছেন। জিয়াংশু প্রদেশের এক ছাত্রী জানিয়েছে, একটা ছোট ব্যবসা শুরু করতে চেয়েছিল সে। সেজন্য তিনি এই শর্তে রাজি হয়ে নিজের নগ্ন ছবি পাঠিয়ে প্রচুর টাকা ঋণ নেন। চার মাসের মধ্যেই তিনি দেখেন তাদের ঋণ নেয়া অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ দেখাচ্ছে। ঋণদাতাদের হুমকিও আসতে শুরু করে। তখন বাধ্য হয়ে তিনি পরিবারের থেকে টাকা নিয়ে কোনোক্রমে ঋণ শোধ করেন।

এই নগ্ন ঋণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ইন্টারনেটে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে চীনের বাসিন্দারা। সমালোচনার ঝড় উঠেছে সে দেশের সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। ঋণদান নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না- এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে বিভিন্ন মহলে। এই ঘটনার নিন্দা করেছে খোদ জিয়েদাইবাও ওয়েবসাইটও। পুলিশের সাহায্য নিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করারও ব্যবস্থা করা হবে বলে সাইটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।