মেইন ম্যেনু

নগ্ন মডেলের ড্রেসিংরুমে ঢুকে পড়তেন ট্রাম্প

২০০৫ সালে ১১ এপ্রিলের একটি ঘটনা। হাওয়ার্ড স্টার্নের রেডিও টকশোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছু কথা বলেন, যা বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সেই টকশোতে রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ট্রাম্প বলেন, ‘অনুষ্ঠানের আগে আমি মঞ্চের পেছনে যাব এবং দেখব সবাই পোশাক পরছে, প্রস্তুত হচ্ছে, সবকিছু্ই দেখব। আর আপনি জানেন,কোথাও কোনো পুরুষ নেই। আমি যেহেতু প্রতিযোগিতার মালিক, সব জায়গায় আমার যাওয়ার অনুমতি আছে এবং আমি এটা পরিদর্শন করি।’

এরপর হাওয়ার্ড স্টার্ন বলেন, ‘আপনি ডাক্তারের মতো।’ জবাবে ট্রাম্প বলেন : ‘সব কিছু ঠিক আছে? আপনি জানেন, তারা সেখানে কোনো কাপড় পরে ছিল না। আর দেখেন অবিশ্বাস্য চেহারার নারীরা সেখানে।’

লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক টিভি স্টেশন সিবিএস-২ বিষয়টি যাচাই করতে সাবেক মিস অ্যারিজোনা টাশা ডিক্সনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি ২০০১ সালে অ্যারিজোনার সেরা সুন্দরী নির্বাচিত হন। ডিক্সন বলেন, যখন প্রতিযোগীরা নগ্ন, আধা নগ্ন বা পোশাক বদল করছিলেন তখন ট্রাম্প তাদের কক্ষে প্রবেশ করেন।

বাজফিড জানিয়েছে, ১৯৯৭ সালে মিস টিন ইউএসএ সুন্দরী প্রতিযোগিতায় পোশাক বদলের কক্ষে ঢুকে পড়েছিলেন ট্রাম্প। প্রতিযোগীদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীও ছিল। ওই প্রতিযোগীদের মধ্যে চারজন কথা বলেছেন বাজফিডের সঙ্গে। নাম প্রকাশের অনুমতি দিয়ে মারায়া বিলাডো বলেন, ‘আমি মনে করতে পারছি, আমি দ্রুত পোশাক পরছিলাম, হায় ঈশ্বর! আমি সেখান একজন পুরুষকে দেখেছিলাম।’ মারায়া মিস ভারমন্ট টিন ইউএসএ নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এদিকে, টাশা ডিক্সন ও অন্যরা কাপড় পরার সময় কক্ষে ট্রাম্পের ঢুকে পড়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সিবিএস ২ কে। তারা বলেন, ‘তিনি ধীরে হাঁটতে হাঁটতে ভেতরে চলে এলেন। গাউন বা কোনো ধরনের কাপড় পরার জন্য আমরা একটা সেকেন্ডও সময় পাইনি। কোনো কোনো মেয়ের ওপরে কাপড় ছিল না। অন্যরা নগ্ন ছিল।’

ডিক্সন বলেন, ‘তার (ট্রাম্প) সঙ্গে আমাদের প্রথম পরিচয় হয় পোশাক বদলের ঘরে অথবা বিকিনি পরা অর্ধনগ্ন অবস্থায়। আমরা যখন নগ্ন, অর্ধ নগ্ন, শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকি, তখনই আমরা ট্রাম্পকে ভেতরে আসতে দেখি। আর তার লোকজন আমাদের বলত, তার কাছে ঘেঁষতে, তার সঙ্গে হাঁটতে, কথা বলতে এবং তার মনোযোগ কাড়তে।’ তিনি বলেন, এসব সুযোগ নেওয়ার কারণেই ট্রাম্প এই প্রতিযোগিতার মালিক হতেন।