মেইন ম্যেনু

নতুনদের জঙ্গি কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করতেন সেই ৩ নারী

রাজধানীর আজিমপুর থেকে আটক সন্দেহভাজন তিন নারী ‘জঙ্গি’ আবিতাতুন ফাতেমা, আফরিন প্রিয়তি ও শায়লা আফরিন জঙ্গি হামলার অপারেশনাল কাজে জড়ায়নি। বরং তারা আড়ালে থেকে জঙ্গি কাজে উদ্বুদ্ধ করতেন। নতুন করে তারা জেএমবিতে যোগদান করতেন তাদের তারা জঙ্গিবাদের পক্ষে কাউন্সেলিংয়ের কাজ করতেন। তদন্ত ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সহকারী কমিশনার আহসানুল হক ঢাকা মহানগর মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে আটক তিন নারীর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম মো. নুরুন্নবীর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। সোমবার থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।

গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গিবাদের নতুন মাত্রা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদে নারীদের সম্পৃক্ততা। হামলার পরিকল্পনা ও যোগাযোগে জেএমবি সদস্যদের চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়ায় ব্যবহার করা হচ্ছিল নারী জঙ্গিদের।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, মূলত জেএমবির পরিকল্পনায় নারীরা জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে। গুলশান, শোলাকিয়া হামলা ও কল্যাণপুরে বড় ধরনের হোঁচট খাওয়ার পর দেশীয় জঙ্গিরা নিরাপত্তার বেড়াজাল ভাঙতে নারীদের সম্পৃক্ততা।

জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে সিরাজগঞ্জে ৪ নারী ও ঢাকাতে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের ছাত্রী ও একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্নি ডাক্তারসহ ৪ নারী গ্রেফতার হয়। টনক নড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের।

এরপরেই আজিমপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে গ্রেফতার করা হয় জঙ্গি সংগঠনের ঊর্ধ্বতন তিন নেতার স্ত্রীকে।

এই তিন নারী জঙ্গি সদস্য হলেন তানভির কাদেরি ওরফে আবদুল করিমের স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা ওরফে খাদিজা, নুরুল ইসলাম মারজানের স্ত্রী আফরিন ওরফে প্রিয়তি ও জঙ্গি বাসারুজ্জামানের স্ত্রী শায়লা আফরিন।

রিমান্ড ও তদন্ত কাজে জড়িত কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আজিমপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক ওই তিন নারীকে জেএমবির অপারেশনাল কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো হয়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার আহসানুল হক বলেন, এই তিন নারী জঙ্গিকে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সব বিষয়ে হয়তো জানানো হতো না। তাদেরকে ওয়াকিবহাল করা হলেও অপারেশনাল কর্মকাণ্ডে জড়ানো হয়নি কৌশলগত কারণে। বরং তাদের দ্বারা জঙ্গিবাদে নতুন রিক্রুটমেন্ট ও উদ্বুদ্ধকরণের কাজ করানো হতো। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে জানা যাবে আরো নতুন কোনো তথ্য।

উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে আজিমপুরে বিডিআর ২ নম্বর গেটের পাশে এক বাড়িতে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। ওই অভিযানে আহতাবস্থায় আবিতাতুন ফাতেমা, আফরিন প্রিয়তি ও শায়লা আফরিনকে আটক করে পুলিশ। পরে তদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর লালবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।