মেইন ম্যেনু

নতুন আবিষ্কারে বাংলাদেশী তরুণেরা

পৃথিবীর অন্যান্য সব দেশের সাথে তালে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ প্রতিটা দিন, প্রতিটা বছর একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। আর তার এই সামনে যাওয়ার পুরো কার্যক্রমটি যাদের কারণে সফল হয়ে উঠছে তারা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। দেশকে ভালোবেসে, দেশের জন্যে কাজ করা বাংলাদেশের মানুষেরা সবসময়ই চেষ্টা করে চলেছে নিজেদের কাজের মাধ্যমে দেশকে আরো একটু উপরে নিয়ে যাওয়ার। আরো একটু পরিচিত করে তোলার বাইরের সবার কাছে। আর তাদের এই দলে রয়েছেন নানা বয়সের হাজার হাজার গবেষক আর বিজ্ঞানীরাও। প্রতি বছর তাদের অক্লান্ত চেষ্টায় বাংলাদেশ আবিষ্কার করছে নতুন নতুন আর উন্নত সব উদ্ভাবনীকে। চলুন এক নজরে দেখে নিই সম্প্রতি বাংলাদেশী তরুন ও সম্ভাবনাময় বিজ্ঞানীদের নির্মিত এমনই কিছু আবিষ্কার।

১. পেট্রোল বোমা প্রতিরোধকারী প্রযুক্তি

কিছুদিন আগেই গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনকে লক্ষ্য করে পেট্রোলবোমা ছুঁড়ে মারা এবং এর ফলে শত শত মানুষের পুড়ে মারা যাওয়া বেম স্বাভাবিক আর নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশে। নিজেদের দেশের মানুষকে এমন বাজে ও ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করতেই ২০১৫ সালে পঞ্চম ডাচ বাংলা ব্যাংক ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের প্রযুক্তি মেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই ছাত্র রাহিদ ইকরাম ও আবদুল্লা রুপম নিয়ে আসে নিজেদের আবিষ্কার পেট্রোল বোমা প্রতিরোধকারী প্রযুক্তি। যেখানে প্রতিটি যানবাহনে পাইপ লাগানো থাকবে। সেই পাইপে থাকবে আগ্নিনির্বাপনের সব রকমের ব্যবস্থা। কোন কারণে যদি যানবাহনের গায়ে আগুন লাগে, সেটা পেট্রোল বোমা থেকেই হোক কিংবা অন্য কারণেই হোক, সেক্ষেত্রে সাথে সাথে পাইপ থেকে সয়ংক্রিয়ভাবে অগ্নিনির্বাপক গ্যাস ও ড্রাই পাউডার বেরিয়ে আগুনকে নিভিয়ে ফেলবে। এতে করে যানবাহনে আগুন লাগার ভয় থাকবেনা। থাকবেনা আর আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার ভয়। কেবল যানবাহনের বাইরেই নয়, যাত্রীদের সীটের সাথেও এরকম সয়ংক্রিয় যন্ত্র লাগানো যেতে পারে বলে জানায় এই ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা।

২. অসম্ভব শক্তিশালী অধরা ভরহীন কণা

সম্প্রতি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বাংলাদেশী বৈজ্ঞানিক জাহিদ হাসান নিজের দলকে নিয়ে একটি গবেষণা করেন এবং এর মাধ্যমে আবিষ্কার করেন অত্যন্ত শক্তিশালী একটি অধরা ভরহীন কণা। নিজের অন্যরকম প্রকৃতির দ্বারা বৈদ্যুতিক শক্তিকে আরো অনেক বেশি দ্রুত আর দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ তৈরি করে দেবে এই কণা এমনটাই আশা জাহিদ হাসানের। ক্রিস্টালের ভেতরে ম্যাটার ও অ্যান্টিম্যাটার- উভয়ভাবেই কাজ করার অস্বাভাবিক ক্ষমতা রয়েছে এটির। জানান জাহিদ হাসান। শুধু তাই নয়, এই একটি ক্ষেত্র বাদেও আরো অনেক অজানা ব্যাপারকেও সবার হাতের মুঠোয় এনে দিতে পারে বলে জানান কণাটির আবিষ্কারক।

৩. সবচাইতে কম খরচে বিদ্যুৎ উত্পাদন

এ বছরে সবচাইতে কম খরচে বিদ্যুৎ উত্পাদন করার উপায় আবিষ্কার করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর বাসিন্দা মোঃ জালাল উদ্দীন। খুব তাড়াতাড়িই আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে চাকরিতে ঢুকে পড়লেও সবসময় জালাল উদ্দীনের ইচ্ছা ছিল দেশের জন্যে কিছু করার। আর সেই চিন্তা থেকেই সবসময় চেষ্টা করে যান তিনি দেশের মানুষকে কম খরচে বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করার। এতদিন পর জালাল উদ্দীনের সেই চেষ্টা সফল হয়েছে। ফেরাল জিম নামক একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন এ বছরে এই মানুষটি। যেটির মাধ্যমে খুব সহজেই মাত্র ২০ পয়সায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উত্পন্ন করা যাবে।

৪. কম খরচের বাবল সিপিএপি আবিষ্কার

বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশেই প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু নিউমোনিয়া ও হাইপক্সেমিয়ায় ( রক্তে অক্সিজেনের অভাব ) ভুগে থাকে। এতে করে জন্মের পরপর কিংবা মায়ের গর্ভেই মারা যায় অনেক শিশু। উন্নত দেশগুলো বাবল সিপিএপির মাধ্যমে এই সমস্যা ও প্রিম্যাচিউর শিশুদের জন্মের আগেই মৃত্যুর সম্ভাবনাকে কমিয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের মতন উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর কাছে ব্যাপারটি খুবই ব্যয়বহুল। আর তাই এ বছরের আগ অব্দি বাংলাদেশের জন্যে এই সামান্য সমস্যাটি এনে দিত হাজার হাজার ছোট শিশুর মৃত্যু। তবে আর নয় এই অকাল মৃত্যু। সম্প্রতি আইসিসিডিআরবির এক বৈজ্ঞানিক ডক্টর মোহাম্মদ চিশতী পুরো জিনিসটাকে নিয়ে গবেষণা করেন এবং অনেকটা দিন অপেক্ষার পর অবশেষে এ বছর এসে তৈরি করতে সমর্থ হন এমন একটি প্রতিষেধক যেটা কিনা সিপিএপির মতনই কাজ করে। তবে অনেক বেশি কম দামে। নিজের আবিষ্কারের মাধ্যমে হাজার হাজার শিশুর জীবন বাঁচানোর কারণে ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন চ্যান্সেলরস প্রাইজের মনোনয়নও পেয়েছেন এই বিজ্ঞানী।