মেইন ম্যেনু

নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারের কয়েদি সেল যেমন

ঢাকা থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-মাওয়া সড়কের দক্ষিণে কেরানীগঞ্জে ৪ হাজার ৫৯০ বন্দি ধারণক্ষমতার নতুন কারাগার নির্মাণ করা হয়েছে ১৯৪ দশমিক ৪১ একর জমির উপর। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪০৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। নতুন এ কারাগারের নির্মাণ শুরু হয় ২০০৭ সালে।

২ হাজার ৮২৬ বন্দি ধারণক্ষমতার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মিত হয়েছিল ১৭৮৮ সালে। সোয়া ২শ বছর আগে স্থাপিত পুরান ঢাকার এ কারাগারে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা অনুমোদিত সীমার প্রায় তিনগুণ। আর সেকারণেই নির্মাণ করা হয়েছে নতুন কারাগার।

এ কারাগারের সব ভবনের নামকরণ করা হয়েছে নদী ও ফুলের সঙ্গে মিল রেখে। দেশের প্রধান প্রধান নদী পদ্মা, যমুনা, করতোয়া নামকরণ করা হয়েছে তিনটি ভবনের। বকুল, শাপলা ও চম্পাকলি রাখা হয়েছে অপর তিন ভবনের।

নতুন কারগারের পেরিমিটার দেয়ালের ভেতরে তিন হাজার বিচারাধীন আসামি ওয়ার্ড রয়েছে। পেরিমিটার দেয়ালের বাইরে ১২৩০ দশমিক ৯৬ আয়তনের একটি চার তলা ভিত্তির দুই তলার প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। সাক্ষাৎকার ভবন রয়েছে একটি। এছাড়া বিভিন্ন আয়তনের ৯৮টি আবাসিক কোয়ার্টার ইউনিট রয়েছে। ৩৮৪ কারারক্ষী থাকার জন্য রয়েছে ব্যারাক।

সাজাপ্রাপ্ত বন্দি ওয়ার্ড রয়েছে এক হাজার। বিপজ্জনক বন্দি সেল রয়েছে ৪০০। কিশোর বন্দি ভবন রয়েছে একটি, যাতে একশ কিশোর বন্দি থাকার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া একটি শ্রেণিপ্রাপ্ত বন্দি ভবন রয়েছে, যাতে থাকার ব্যবস্থা আছে ৬০ (ভিআইপি) বন্দির। এমআই ইউনিটে থাকতে পারবে ২০ বন্দি।

কারাগারের ভেতরে একটি অত্যাধুনিক ফাঁসির মঞ্চ রয়েছে। ওই মঞ্চে একসঙ্গে দুইজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ফাঁসি কার্যকর করা যাবে।

এছাড়া একটি জেলা স্কুল অ্যান্ড লাইব্রেরি, আটটি রান্নাঘর, ১৬টি ডে-টাইম বাথিং, একটি ওয়ার্ক সেল, একটি সেলুন, একটি আটা তৈরির কল, একটি কেইস টেবিল, ১০টি পানির রিজার্ভার, ১০টি পাম্প হাউজ রয়েছে। পুরো কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা নিশ্চিতে থাকছে ৪৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ইলেকট্রনিক বারবেড ওয়ারফেন্সিং।

৪০০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জেনারেটরও রয়েছে। গোডাউন রয়েছে তিনটি। সাবস্টেশন ভবন একটি। অবজারভেশন টাওয়ার চারটি, ২টি সেন্ট্রি বক্স ও একটি মসজিদও রয়েছে নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে।