মেইন ম্যেনু

নতুন জামা নয়, পুজোয় বাবা-মার কাছে অবাক আবদার বালকের

পুজোর আগে নতুন জামা, জুতো বা নিদেন পক্ষে ক্যাপ ফাটানোর বন্দুকও নয়! দক্ষিণ দিনাজপুরের তিওর এলাকার অন্তর্গত জগদীশপুর গ্রামের বছর দশেকের বালক বাবা-মায়ের কাছে বাড়িতে শৌচাগারের আব্দার করেছে। সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে সে, ঠিক দু’দিন!

মিশন নির্মল জেলার সচেতনতা শিবিরে তিওর হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া বিশ্বজিৎ মাহাতো সকলের সামনে গলা উঁচিয়ে তার বাবা- মাকে হঁশিয়ারি দিয়েছে, যে আগামী দু’দিনের মধ্যে বাড়িতে শৌচালয় বানিয়ে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বাবা-মাকে সে একথাও বলেছে যে, আর মাঠে ঘাটে নয়। শৌচাগার বানিয়ে না দিলে বাড়ির উঠোনেই সে প্রাকৃতিক কাজ সারবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাকে নির্মল জেলা হিসেবে ঘোষণা করতে জেলাশাসক সঞ্জয় বসুর নেতৃত্বে ‘টিম দক্ষিণ দিনাজপুর’ খোলা মাঠে ও ঝোপঝাড়ে মল-মূত্র ত্যাগ করা বন্ধের লক্ষ্যে গ্রামে গ্রামে মিছিল ও সচেতনতা শিবির করছে।

বুধবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ তিওরের বিনশিরা এলাকার জগদীশপুর ও ন’পাড়া গ্রামে এই সচেতনতা শিবির করা হয়। এদিন মিছিল শেষে স্থানীয় ন’পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে শিবিরে যখন জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে উপস্থিত মহিলা ও পুরুষদের বাড়িতে শৌচালয় তৈরির জন্য সচেতন করছিলেন। তাঁর সেই বক্তব্যের মাঝেই বিশ্বজিৎ মাহাতো ভিড় ঠেলে জেলাশাসক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সামনে এগিয়ে এসে তার বাবা সুকুমার মাহাতোর উদ্দ্যেশ্যে বলে, বাড়িতে শিগগিরই শৌচালয় তৈরি করে দিতে হবে।

অন্যথায় এবার থেকে মাঠে না গিয়ে বাড়ির ভিতরেই সে প্রাকৃতিক কাজ সারবে। এদিন বিশ্বজিৎ মাঠে উপস্থিত অন্যান্য ছোট্ট বন্ধুদের অনুরোধ করে, তারাও যেন বাবা-মায়ের কাছে একই আবেদন করে।

মাঠে ঘাটে মলমূত্র ত্যাগের ফলে দৃশ্যদূষণ ও রোগজীবাণু প্রতিরোধে বিশ্বজিতের এই প্রতিবাদী রূপে অবাক হয়ে যান জেলাশাসক ও অন্যান্য কর্মী আধিকারিকরা। সকলেই ছোট্ট এই শিশুটির পাশে দাঁড়িয়ে তার প্রশংসা করেছেন। সেই সঙ্গে অন্যান্য শিশুদেরও একই ভাবে বাড়িতে শৌচাগার বানিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে বড়দের বাধ্য করার কথা বলেন প্রশাসনিক কর্তারা।