মেইন ম্যেনু

নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত হতে আরো একমাস

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত হতে আরো এক মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে নতুন পে-স্কেল জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকেই বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি আশাবাদী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ, মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস এন মাকসুদ কামাল প্রতিনিধিদলের নের্তৃত্ব দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এটাই হয়তো সর্বশেষ পে-স্কেল। এরপর আমরা স্থায়ী পে-স্কেল গঠনের চিন্তা ভাবনা করছি। স্থায়ী পে-কমিশন গঠিত হলে বর্তমান পে-স্কেলে বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যে ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হয় তা দূর হবে। স্থায়ী পে-কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেতন সমন্বয় হবে।

তিনি বলেন, পে-স্কেল সংক্রান্ত পে-কমিশনের সুপারিশ ও সচিব কমিটির প্রতিবেদন দুটোই এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে। আগামী মাসেই এটা চূড়ান্ত করা হবে। তবে যখনই এটা চূড়ান্ত করা হোক না কেন, ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, এর আগেরবার পে-স্কেল চূড়ান্ত করতে ৫ জন মন্ত্রীকে নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এবার এমন কিছু করা হবে কি না জানি না।

মুহিত বলেন, পে-স্কেলে অনেক জটিলতা থাকে। সেগুলোর সুরাহা করা অনেক কঠিন। আমার কাছে যখন কোন কেস আসে তখন সেটা বোঝা যায়।

তিনি বলেন, পে-কমিশনের সুপারিশে ২০টির পরিবর্তে ১৬টি গ্রেড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু যেটা একবার চালু হয়ে গেছে, আমি মনে করি সেটা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আমি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতার সংখ্যা কমিয়ে আনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারি নাই। ভাতা এখন অধিকারের মত হয়ে গেছে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০টি ভাতা পান। আমার মতে, ভাতা চারটির (বাড়ি ভাড়া, চিকিংসা, যাতায়াত ও আপ্যায়ন) বেশি থাকা উচিত নয়।’

স্বতন্ত্র পে-স্কেল চান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল ঘোষণা ও বৈষম্য দূরীকরণসহ চার দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেন।

এ ছাড়া বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিদেশ গমণ বৃত্তির দাবি জানান তারা।

দাবি প্রসঙ্গে শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। দাবিগুলোর সঙ্গে শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টি জড়িত। সুতরাং এগুলো বাস্তবায়িত না হলে বৃহত্তর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবেন শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব বিষয়ে আমি এখন কোন মন্তব্য করবো না। বিষয়গুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, তবে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল গঠনের বিষয়টি ২০০৮ সালের নির্বাচনে অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় নাই। গত নির্বাচনে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।