মেইন ম্যেনু

নতুন বছরে জীবন থেকে বাদ দিন এই আলসেমিগুলো

নতুন একটি বছর এসে গেলো বলে। এ সময়টায় অনেকেই নতুন বছরে নতুন কিছু করবার সংকল্প রাখেন। কেউ বা অতীত ভুলে নতুন দিনগুলো ভালো হবে সেই আশা করেন। কিন্তু আপনার মাঝে যদি কিছু আলসেমির অভ্যাস থেকে থাকে, তাহলে যতই লক্ষ্য স্থির করুন না কেন, তাতে পৌঁছাতে পারবেন না সহজে। আপনি নিজেকে অলস মনে করবেন না, ভাবুন আপনার কেবল কিছু আলসেমির অভ্যাস আছে। এসব বদঅভ্যাস যে কেউ বাদ দিতে পারেন। আর এসব অভ্যাস থেকে বের হয়ে এলেই আপনি দেখবেন জীবনটা হয়ে গেছে অনেক গোছানো, আর লক্ষ্য পূরণ হয়ে পড়বে আগের চাইতে অনেক সহজ।

১) ঘরের কাজ ফেলে রাখা

মূলত কাপড় ধোয়া এবং বাসন-কোসন ধোয়াটা জরুরী। আপনি নিজেই কাপড় ধুচ্ছেন নাকি গৃহকর্মী ধুয়ে রাখছে সেটা ব্যাপার না, অথবা ওয়াশিং মেশিনে ধোয়াটাও ব্যাপার না। সময়মত কাপড় ধুতে দেওয়া এবং সেটা মনে করে উঠিয়ে রাখতে পারাটাই দরকারি। কাপড় ধোয়াটা অনেকের কাছেই বিরক্তিকর মনে হলেও এটা জরুরী। দরকারি কাপড় ধোয়া না থাকলে জীবনের বেশ কিছু ক্ষেত্রে উটকো সমস্যায় পড়তে হতে পারে। যেমন ইন্টারভিউয়ের দিনে স্যুটের সাথে মানানসই মোজা অথবা শার্টের সাথে ম্যাচিং টাই খুঁজে পাবেন না। অনুষ্ঠানে যাবার সময়ে দেখা যাবে পছন্দের শাড়িটা এখনো ধোয়া হয়নি, প্রেজেন্টেশনের সময়ে দেখবেন কোন ফর্মাল পোশাক নেই। এসব ঝামেলা এড়াতে নিয়মিত কাপড় ধুইয়ে নেবার অভ্যাস রপ্ত করে ফেলুন। এর পাশাপাশি সিঙ্কে জমে থাকা বাসন-কোসন পরিষ্কার করে ফেলাটাও জরুরী। খাওয়ার পর পরই চেষ্টা করুন এগুলো ধুয়ে ফেলতে। নয়তো অন্ততপক্ষে বাসা থেকে বের হবার আগে নিজে বা গৃহকর্মীকে দিয়ে ধুইয়ে রাখুন। বাড়িতে ফিরে সিঙ্ক ভর্তি ময়লা বাসনপত্র দেখলে আপনার মেজে পুরোপুরি খিঁচড়ে যাবে।

২) রিজুমি আপডেটেড না রাখা

আপনি নিজের চাকরিতে হয়তো এখন বেশ সুখেই আছেন। কিন্তু সামনের বছর যদি হুট করে অন্য কোথাও চাকরি খোঁজার দরকার হয়? তখন তাড়াহুড়ো করে রিজুমি আপডেট করার চাইতে সময়মত আপডেট করে ফেলুন রিজুমি। এই অভ্যাসটা বজায় রাখুন সারা বছরই।

৩) কাছের মানুষদের সাথে যোগাযোগ না রাখা

সবাই বহির্মুখী নয়, সবার পক্ষে নিয়মিত আড্ডা দেওয়া, পার্টিতে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। আর ফোনে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করাটাও সবার পছন্দ নয়। সবার সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতে না পারলেও আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষগুলো, যেমন আপনার পরিবারের নিকট আত্মীয়রা, কাছের বন্ধুরা যেন হারিয়ে না যায় সেদিকে কিছুটা মনোযোগ দেওয়া উচিৎ। মাঝেমাঝে চ্যাটে নক করুন, মেসেজ দিয়ে বলুন “I miss you.”। এতে আপনার কোন ক্ষতি হবে না, বরং নিজের জীবনটাই আরও ভালো হবে।

৪) বসে বসে সময় নষ্ট করা

সারাদিন কাজের পর আপনি বাসায় এসে কী করেন? হয়তো লম্বা হয়ে শুয়ে পড়েন বিছানায়, হাতে তুলে নেন টিভির রিমোট এবং যা দেখানো হয় সেটাই গিলতে থাকেন। একটু অবসর পেলেও হয়তো সেটাই করেন। এটা একেবারে খারাপ বলছি না। তবে সবসময় পড়ে পড়ে সময় নষ্ট করাটা ভালো নয় কিন্তু। কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে নিজের শরীরটাকে একটু চলাচল করান। বাইরে থেকে হেঁটে আসুন, ঘরের কাজ করুন। এমনকি সাহস করে জিমেও চলে যেতে পারেন।

৫) টাকা না জমানো

হ্যাঁ, এটাও আসলে এক ধরণের আলসেমি। আজকে করবো, কালকে করবো করে আর টাকা জমানো হয় না। বাজেট তৈরি করে টাকা আলাদা করে রাখা হয় না। এই কাজটা করে আপনি কিন্তু নিজেকেই বড় বিপদে ফেলছেন। টাকা জমানো শুরু করুন এখনই।

৬) ঘরে রান্না না করে বাইরে খাওয়া

রান্নার ভয়ে অনেকেই বাইরে খেয়ে থাকেন। কিন্তু রান্না করাটা আসলে খুব একটা কঠিন নয়। বাড়িতে কিছুদিন রান্না করে খেলেই দেখবেন আপনার আয়ত্তে চলে এসেছে ব্যাপারটা। আর বাইরে খাওয়ার চাইতে এক্ষেত্রে আপনার যেমন টাকা বাঁচবে তেমনি স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হবে।

৭) নতুন কিছু না করা

জীবন যেভাবে চলছে সেভাবেই চলুক না। পরিবর্তন আনার দরকার কি। এই চিন্তা করে অনেকেই যা চান তা পাওয়ার চেষ্টা করেন না বা একবার চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দেন। এভাবে চিন্তা করাটাও আলসেমি। কারণ পরিবর্তন ছাড়া উন্নতির আশা করা যায় না।

পরিবর্তনকে ভয় পেলেও আলসেমি ভুলে জীবনে কিছু পরিবর্তন আনুন এই নতুন বছরে। সাফল্য ধরা দেবে আপনারই হাতে। নিজেকে সুস্থ রাখুন, জীবন রাখুন সাজানো-গোছানো। নতুন বছর আপনার জন্য শুভ বার্তা বয়ে আনুক।