মেইন ম্যেনু

নতুন বছরে ভেঙে যেতে পারে যেসব রেকর্ড

নতুন আশা ও স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন একটি বছর। এই বছরকে ঘিরে মানুষের পরিকল্পনার অভাব নেই। বছরের ৩৬৫ দিন নানা ঘটনার পসরা সাজিয়ে বসবে। ব্যতিক্রম হবে না ক্রীড়াঙ্গনেও। নতুন এই বছরে কত শত নতুন রেকর্ড হবে। ভেঙে যাবে পুরনো রেকর্ড। ২০১৫ সালে ফুটবলে যেসব রেকর্ড হয়েছে, নতুন বছরে যেসব রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে। নতুন বছরে যেসব রেকর্ড হতে পারে সেগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল:

(১) ২০১৫ সালে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় রবার্ত লেভানডোস্কি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে মাত্র ৯ মিনিটে ৫ গোল করেন। যা বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি পায়। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড তার এই রেকর্ডকে স্বীকৃতি দেয়। তার এই নতুন রেকর্ডটি ২০১৬ সালে ভেঙে যেতে পারে। হয়তো লেভানডোস্কি নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙতে পারেন। ভাঙতে পারেন অন্য কেউও।

(২) ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ২০১৫ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপপর্বে ১১ গোল করেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে প্রথম কোনো খেলোয়াড় হিসেবে ১১ গোল করার কৃতিত্ব দেখান তিনি। গ্রুপপর্বে এর আগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছিল ৯ গোলের। সেটাও অবশ্য প্রথম রোনালদো গড়েছিলেন (২০১৩-১৪ মৌসুমে)। পরে ২০১৪-১৫ মৌসুমে সেটাতে ভাগ বসান শাখতার দনেৎস্ক এর খেলোয়াড় লুইস আদ্রিয়ানো। এবার রোনালদো করেছেন ১১ গোলের রেকর্ড। হয়তো নতুন বছরে কেউ তার রেকর্ডটি ভেঙে দিতে পারে।

(৩) প্রথমবারের মতো ইউরোতে ২৪টি দল অংশ নিতে যাচ্ছে। ইউরোর এবারের আসরে প্রাইজমানিরও রেকর্ড হতে যাচ্ছে। এবারই প্রথম ইউরোতে ৩০০ মিলিয়ন ইউরো প্রাইজমানি থাকছে। তা ছাড়া ইউরোর বাছাইপর্বে মার্টিন ওদেগার্ড সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে খেলার রেকর্ড গড়েন। মাত্র ১৬ বছর ৩ মাস ১১ দিনে তিনি ইউরো বাছাইপর্বে খেলেন।

(৪) ইউরোর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন মিচেল প্লাতিনি। তিনি ১৯৮৪ সালে এক আসরে ৯ গোল করে রেকর্ড গড়েছিলেন। তার এই রেকর্ড ৩২ বছর ধরে অক্ষুন্ন রয়েছে। সুইডেনের জøাতান ইব্রাহিমোভিচ ১০ ম্যাচ খেলে ৬ গোল ও পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ১৪ ম্যাচ খেলে ৬ গোল করেছেন। তারা দুজন ইউরোর চলতি আসরে ৪টি গোল পেলে প্লাতিনির রেকর্ডটি ভেঙে ফেলতে পারবেন। তাছাড়া কেউ যদি এই আসরে ১০ গোল করে বসে তাহলে সেটাও একটা নতুন রেকর্ড হবে। সেক্ষেত্রে ভেঙে যাবে ৩২ বছর আগে প্লাতিনির করা রেকর্ডটি।

(৫) ফ্রান্স এবার ইউরোর শিরোপা জিতলে স্পেন ও জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে তিনবার শিরোপা জয়ের রেকর্ড ভাগাভাগি করতে পারবে।

(৬) ২০১৫ সালে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা ৫টি ট্রফি জিতেছে। যার মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাকর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা। ২০১৬ সালে প্রথম কোনো দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা অক্ষুন্ন রাখার রেকর্ড গড়তে পারে তারা।

(৭) প্রথম কোনো দল হিসেবে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) সাতটি শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়তে পারে। সেক্ষেত্রে তাদেরকে অবশ্যই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিততে হবে। অবশ্য এর আগে কখনো ক্লাবটি চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিততে পারেনি।

(৮) চলতি বছরে প্রথম কোনো দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের ১১টি শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়তে পারে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। ইতালিয়ান সিরি’আ লিগের দুই ক্লাব এসি মিলান (৭) ও ইন্টার মিলান (৩) মিলে ১০টি শিরোপা জিতেছে। এবার যদি তাদের কেউ শিরোপা জিততে পারে তাহলে ইতালির দুই দল মিলে ১০টি শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়বে। অবশ্য চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল এবার ইতালিতে হবে।

(৯) ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে ১৭টি গোল করার রেকর্ড রয়েছে। গ্রুপপর্বে ইতিমধ্যে সে ১১টি গোল করেছে। এবার হয়তো রোনালদো তার আগের রেকর্ডটি ভেঙে দিতে পারেন।

(১০) সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে গোল করার রেকর্ড গড়তে পারেন ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমার ফ্রান্সেকো টট্টি। বর্তমানে তার বয়স ৩৯ বছর ৩ মাস ৫ দিন। এর আগে তিনিই ৩৮ বছর ৫৯ দিন বয়সে গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে গোল করার রেকর্ড গড়েছিলেন। এবার নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন।

(১১) হোসে মরিনহো সবচেয়ে কম বয়সী (৪৯ বছর ১২ দিন) কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০০ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছিলেন। চেলসি থেকে বরখাস্ত হওয়ার কারণে এখন যদি তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলছে এমন কোনো দলের দায়িত্ব পেয়ে যান তাহলে সেই রেকর্ডটি বাড়িয়ে নিতে পারবেন তিনি।

(১২) চলতি বছরে বায়ার্ন মিউনিখ টানা চারটি জার্মান বুন্দেসলিগার শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়তে পারে। পয়েন্ট টেবিলে বর্তমানে তারা যে অবস্থায় রয়েছে তাতে এবারও যে তাদের ঘরেই শিরোপা উঠবে সেটা বলা যায়।

(১৩) মেসুত ওজিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে ১৫টি গোলে সহায়তা করেছেন। আর ৬টি গোলে সহায়তা করতে পারলেই তিনি হয়ে যাবেন প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলে সহায়তাকারী। এই রেকর্ডটি অবশ্য বর্তমানে থিয়েরে অঁরির দখলে রয়েছে। তিনি এক মৌসুমে ২১টি গোলে সহায়তা করে রেকর্ড গড়েছিলেন।

(১৪) লেইচেস্টার সিটির খেলোয়াড় জিমি ভার্দি প্রিমিয়ার লিগে টানা ১১ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন। ২০১৬ সালে হয়তো নতুন রেকর্ড গড়তে পারেন তিনি।

(১৫) ২০১৬ সালটি হতে পারে ১০০ মিলিয়ন+ দলবদল ফি এর রেকর্ড। সেক্ষেত্রে লিওনেল মেসি, নেইমার কিংবা রোনালদোর ইংল্যান্ডে পাড়ি দিতে হবে। তেমনটি অবশ্য গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এই রেকর্ড হতে হলে গুঞ্জন যে সত্যি হতে হবে।

(১৬) ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড় ইয়া ইয়া তোরে টানা চারবার আফ্রিকার বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। এবার যদি তিনি বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তাহলে পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন একটি রেকর্ড গড়বেন তিনি।

(১৭) সবশেষে নিশ্চিত করেই বলা যায় নতুন এই বছরেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি তাদের রেকর্ড ভাঙা গড়ার খেলা অব্যাহত রাখবেন।