মেইন ম্যেনু

নতুন বেতন স্কেলের গেজেটে যা আছে

অবশেষে প্রকাশ হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত অষ্টম বেতনকাঠামোর গেজেট। মঙ্গলবার রাতে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এ গেজেট হস্তান্তর করেন অর্থবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আলী খান।

নতুন স্কেলে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ও সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রেড থাকছে ২০টি। টাইম স্কেল ও সিকেশন গ্রেড না থাকলেও, ৬ বছর ও ১০ বছর পর আপনা-আপনি পদোন্নতি পাবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গেজেটে উল্লেখ করা হয়, যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে তারা ৫৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া পাবেন। আর যাদের মূল বেতন ৩৫ হাজার টাকার উপরে, তারা পাবেন ৫০ শতাংশ। এছাড়াও নতুন বেতন কাঠামোতে শিক্ষা ভাতা দেয়া হবে এক হাজার টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা দেয়া হবে দেড় হাজার টাকা। এই কাঠামোতে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসর ভাতা পাবেন মূল বেতনের ৯০ শতাংশ।

গেজেটে বলা হয়েছে, “কর্মচারীগণ ১ জুলাই ২০১৫ তারিখ হইতে এই আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হইবেন। এই আদেশের অধীন প্রদেয় অন্যান্য সকল ভাতা ৩০ জুন ২০১৫ তারিখে প্রাপ্য অঙ্কে ৩০ জুন ২০১৬ তারিখ পর্যন্ত প্রদান করা হবে।”

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বিলুপ্ত হলেও যে সব কর্মচারী ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে অবসরোত্তর ছুটি বা পিআরএলে রয়েছেন, তারা ৩০ জুন ২০১৫ সালে যে হারে মহার্ঘ ভাতা পেতেন, সে হারে পেতে থাকবেন বলে গেজেটে বলা হয়েছে।

বিদ্যমান সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বিলোপ করে গেজেটে বলা হয়েছে, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ১০ বছর সন্তোষজনকভাবে চাকরি করলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একাদশ বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন। আর কোনো স্থায়ী কর্মচারী চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার পর পরবর্তী ছয় বছর পদোন্নতি না পেলে তার চাকরি সন্তোষজনক হলে সপ্তম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন বলে গেজেটে উল্লেখ রয়েছে।

গেজেট প্রকাশের আগের দিন অর্থাৎ গত ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব সরকারি কর্মচারী সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল পেয়েছেন, তা বহাল থাকবে বলেও গেজেটে বলা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, প্রতি বছরের ১ জুলাই একসঙ্গে সব সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়বে। এছাড়া নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন।

এই বেতন কাঠামো জারির পর প্রত্যেক কর্মীকে নিজের বেতন নির্ধারণের জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে (www.payfixation.gov.bd) জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে লগ ইন করে নির্দিষ্ট ছক পূরণ করতে হবে।

নতুন স্কেলে শুধু বেতন দিতেই চলতি অর্থবছরে সরকারের ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে। আগামী বছর বেতন-ভাতা খাতে অতিরিক্ত লাগবে ২৩ হাজার ৮২৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

আগের বেতন কাঠামোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত বেতন কমিশন গত বছরের ২১ ডিসেম্বর অষ্টম বেতন স্কেলের সুপারিশ জমা দেন। ১৬টি গ্রেডে সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা মূল বেতন ধরে নতুন কাঠামো প্রস্তাব করে কমিশন।

ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি গত ১৩ মে সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ এবং সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা মূল ধরে কাঠামো সুপারিশ করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনার পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল ধরে নতুন কাঠামো অনুমোদন করা হয়।



« (পূর্বের সংবাদ)