মেইন ম্যেনু

নদী ভাঙন রোধে ভোলায় ৫৫১কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

মোঃ ফজলে আলম, ভোলা: ভোলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার প্রায় ৬ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের অস্তিত্ব রক্ষার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে মঙ্গলবার একনেকের সভায় ৫৫১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

এ প্রকল্প পাস হওয়ার খবর দ্রুত ভোলার দৌলখান ও বোরহানউদ্দিনে ছড়িয়ে পড়লে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে মেঘনা পাড়ের হাজারো নদী ভাঙা পরিবারের সদস্যরা। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, ও ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে থাকেন। মসজিদে দোয়া- মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শোকরিয়া আদায় করা হয়।

এদিকে দৌলতখান উপজেলার রাধাভল্ব, ভবানীপুর, চৌকিঘাট এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী ভাঙন রোধে প্রকল্প একনেকে পাস হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করছেন নদী ভাঙা পরিবারের নারী ও পুরুষরা।

এ সময় জেলে পল্লীর মনোয়ারা বেগম জানান, তারা প্রায় ২০ বার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে নিস্ব হয়েছেন। এ সংবাদে এখন আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। জেলে কাদের জানান, তার পরিবার অর্ধ শতাধিকবার নদী ভাঙনের শিকার হন। এখন দৌলতখানের নদীর পাড়ে বসবাস করছেন। ব্লক পাস হওয়ার খবরে খুশি তিনিও খুশি।

প্রকল্প পাস হওয়ার খুশিতে সন্ধা থেকে দৌলতখান বাজারে ঘরে ঘরে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করে এলাকাবাসী। এ সময় সদর রোড এলাকায় এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, পানি সম্পদমন্ত্রী ও ভোলা-২ আসনের এমপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন দৌলতখান উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট গোলাম মোর্শেদ কিরণ তালুকদার, গোলাম নবী নবু, প্রচার সম্পাদক আলাউদ্দিন রতন, যুবলীগ সভাপতি জিএস ভুট্রু, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালেক মাষ্টার, যুবলীগ সম্পাদক হামিদুর রহমান টিপু, কাউন্সিলর ফয়েজ।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হেকিম বলেন, বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলার ৯ দশমিক ৫৩৮ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন রোধে ৫৫১ কোটি টাকার প্রকল্প মঙ্গলবার একনেকের সভায় অনুমোদন পেয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রীর নির্দেশে খুব দ্রুত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নদী ভাঙন রোধে কাজ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।