মেইন ম্যেনু

নবজাতকের জন্ডিস কেন হয়, লক্ষণ কী?

অধিকাংশ নবজাতকেরই জন্মের পর জন্ডিস হতে দেখা যায়। সময় মতো এর চিকিৎসা না নিলে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিনের ২৪০১তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. নাসিম জাহান জেসি। বর্তমানে তিনি আজগর আলী হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু বিভাগের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রশ্ন : নবজাতকের জন্ডিস বলতে আমরা কী বুঝি?

উত্তর : জন্ডিস কী আগে এই বিষয়টি বুঝি। আমাদের শরীরে যে রক্ত হয়, প্রতিনিয়ত সে রক্তটা ভেঙ্গে যায়। ভেঙ্গে গিয়ে নতুন রক্ত তৈরি হয়। এখান থেকে বিলুরুবিন বের হয়। এর রংটা হলুদ। এর পরিমাণ যখন বেড়ে যায় তখনই জন্ডিস হয়। নবজাতকের যখন এটি হয়, তখন আমরা একে নবজাতকের জন্ডিস বলি।

নবজাতকের জন্ডিস কেন হয়- এই বিষয়ে বলি, অনেকে মনে করে, এটি হয়তো খারাপ কিছু। জন্ডিস বললে সবাই একটু ভয় পেয়ে যায়। বড় বাচ্চাদের যে জন্ডিস সেটা সাধারণত সংক্রমণের কারণে হয়। তবে নবজাতকের জন্ডিস খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। মায়ের পেটে থাকাকালীন শরীরে যে বেশি পরিমাণে রক্ত থাকে, লাল রক্ত কণিকা, সেটা ডেলিভারি (প্রসব) হওয়ার পর আস্তে আস্তে ভেঙ্গে যায়। ভেঙ্গে বিলুরুবিনটা বের হয়ে আসতে থাকে। এরপর আমাদের লিভার একে প্রসেসিং (প্রক্রিয়াজাত) করে সলিউবল (দ্রবণীয়) করে প্রস্রাব পায়খানা দিয়ে বের করে দেয়। এতে জন্ডিস কমে যায়।

কিন্তু নবজাতক যারা, তাদের এই জন্ডিস সামলানোর শক্তি কম থাকে। কারণ, তার লিভার অপরিপক্ব থাকে। এর জন্য সে সবটুকু বের করতে পারে না। তখনই তার জন্ডিস বৃদ্ধি পায়।

প্রশ্ন : নবজাতকের জন্ডিস হওয়ার লক্ষণ কী?

উত্তর : নবজাতকের স্বাভাবিক যে জন্ডিস সেটির ক্ষেত্রে দেখা যাবে তিন থেকে চার দিন পর শরীর হলুদ হয়ে যাচ্ছে। প্রথমে চেহারা হলুদ হয়ে যাবে, এরপর হাতে, পায়ে হলুদ আসবে, বুক ও পেটে হলুদ হবে। সর্বশেষে পায়ের তলায় এবং হাতের তালু হলুদ হয়ে যাবে। এ ছাড়া প্রস্রাবও হলুদ হয়ে যাবে। এটা দিয়ে বোঝা যাবে। এ ছাড়া কিছু অপ্রচলিত কারণও রয়েছে।

বিলুরুবিন বেশি তৈরি হলে জন্ডিসের মাত্রাটাও বেশি হয়। এর জন্য কিছু কারণ রয়েছে। বাচ্চা যদি জন্মের পর মায়ের দুধ কম পায়, বেশি খেতে পারে না অথবা মা যদি বাচ্চাকে বেশি দুধ দিতে না পারে বা দুধ যদি কম আসে- সেই সব ক্ষেত্রে দেখা যায় বাচ্চার জন্ডিস বৃদ্ধি পায়। সেই জন্ডিস সাধারণত দুই থেকে তিনদিনে বৃদ্ধি পেয়ে ছয়-সাতদিনের দিকে কমে যাবে।

আর কিছু কিছু মায়ের দুধে এমন একটি উপাদান আছে, যেটা বিলুরুবিনকে লিভার দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে বের করে দেওয়ার ক্ষমতাকে বাধা দেয়। এতে শিশুর জন্ডিস বেড়ে যায়।

আরেকটি বিষয় যেমন মায়ের যদি নেগেটিভ রক্তের গ্রুপ থাকে আর শিশুর যদি পজিটিভ রক্তের গ্রুপ হয়, সেই ক্ষেত্রেও জন্ডিস বেড়ে যাবে। আর মা যদি ও পজিটিভ থাকে, শিশু যদি এ বা বি পজিটিভ থাকে, সেই ক্ষেত্রেও জন্ডিসের মাত্রা বেড়ে যাবে।

আর একটি বিষয় রয়েছে প্রসব যদি জটিল হয়, যেমন হয়তো শিশু মাথায় একটু আঘাত পেয়েছে, যেমন ক্যাফোলোহেমাটোমা-এটা খুব প্রচলিত একটি বিষয়। এর কোনো চিকিৎসা লাগে না। কিন্তু পরে শিশুর জন্ডিস হতে পারে। এই জিনিসগুলো আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আরো কিছু অপ্রচলিত কারণ আছে সেগুলো দেখতে হবে।

এখন কখন বোঝা যাবে জন্ডিসটা জটিল অবস্থা। কিন্তু যদি এটা নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, এতে দেখা যায় শিশুর মস্তিষ্কে ক্ষতি হয়ে যায়। এই জিনিসটা যেন না হয় সে জন্য আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। আমরা যখন শুধু মুখে সমস্যাটি দেখব, তখন বুঝব এটি খুব বেশি বাড়েনি। কিন্তু বুকে আর পেটে যদি চলে আসে, তখন বুঝব একটু সামান্য পরিমাণে বেড়েছে, তাও সহনীয় পর্যায়ে। কিন্তু যদি দেখি পায়ের তলায় বা হাতের তালুতে এসেছে, তখন বুঝতে হবে এটি অনেক বেশি। এটা বোঝার একটি উপায় আছে। আমরা যদি শিশুর ত্বকে বা কপালে একটু চাপ দেই, তখন হাত সরিয়ে দিলে সেখানে হলুদ রং দেখা দেয়। এটা জেনে রাখাটা খুব জরুরি। তাহলে সে হয়তো চিকিৎসা নিতে পারবে। শিশুর জন্ডিসের মাত্রা যদি বেড়ে যায় তাহলে খুব ক্ষতি হয়। এটা কিন্তু স্থায়ী ক্ষতি। হয়তো এখন কিছু বোঝা যাবে না, তবে পরে দেখা যাবে শিশুর বুদ্ধি কম হচ্ছে, অথবা কানে কম শোনা- এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।