মেইন ম্যেনু

নরকের চার রাস্তা

পৃথিবীতে এমন কিছু স্থান রয়েছে যেগুলোর সাথে, মানুষ বিশ্বাস করে, রয়েছে স্বর্গের যোগাযোগ। ঠিক তেমনই এর একেবারেই বিপরীত স্থান নরক নিয়েও আছে মানুষের বিশ্বাস। মানুষ বিশ্বাস করে স্বর্গের সাথে সাথে পৃথিবীর বেশ কিছু স্থান রয়েছে যেগুলোর ধারে-কাছ দিয়ে শুরু হয়েছে নরকের যাত্রা। কিংবা কে জানে হয়তো এই বিশ্বাসগুলো বাস্তবিকভাবেই সত্যি! বৈজ্ঞানিকভাবে অবশ্যই স্বীকৃত নয়। তবে তারচাইতেও বেশি কিছু, মানুষের বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে এখন অব্দি পৃথিবীর ইতিহাসে রুপ নেওয়া কিছু নরকের দরজার অবস্থান দেওয়া হল আজকের এই আয়োজনে।

১. অ্যাকেরন
নরকের রাস্তা কিন্তু কেবল মাটিতেই নয়, থাকতে পারে পানিতেও। আর এই কথাটিরই উদাহরন হল অ্যাকেরন। গ্রীসের উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীটির ব্যাপারে প্রথম বলা হয় ওডিসিতে। সেখানে পাওয়া তথ্যানুসারেই বলা হয় যে, এই অ্যাকেরন নদীটির ওপর দিয়ে আগেকার সময়ে মৃত আত্মাদেরকে নরকে পাঠাতেন দেবতারা। যদিও এর পুরোটাই পৌরণিক কাহিনী। তবে এখনো পর্যন্ত এই ব্যাপারটি বিশ্বাস করেন অনেকে। আর অ্যাকেরনকে ভেবে থাকেন নরকের দরজা ( আইওনাইন )।

২. হিয়েরাপোলিসের প্লাউটোলিয়ন
১৯৬৫ সালে বর্তমান টার্কির পামুক্কালের কাছে এমন একটি স্থানের খোঁজ পায় অনুসন্ধানকারীরা যার সাথে, সব ধরনের প্রমাণ ও গবেষনা সাপেক্ষে, ধর্মীয় কোন ব্যাপারের যোগাযোগ আছে বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে সেখানকার প্রচীন ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও বলি দেওয়ার নিদর্শন সবাইকে মনে করিয়ে দেয় পূর্বের কোন এক জাতির কথা যারা কিনা এখানে নিজেদের দেবতাকে প্রসন্ন করার জন্যে প্রাণী হত্যা করতো। কিন্তু কারা তারা? আর কীই বা এই দেবতার নাম? অনেকটা অনুসন্ধানের পর অবাক করা এক বিষয় বেরিয়ে পড়ে এ স্থানটি সম্পর্কে। আর সেটি হচ্ছে এটি ছিল অনেক আগের হিয়েরাপোলিস নামক এক প্রাচীন শহরের ভেতরকার একটি স্থান, প্লাউটোলিয়ন। যেটির বাসিন্দারা নিজেদের প্লুটো বা মৃত্যুর দেবতার খুব কাছের কেউ মনে করত। শুধু তাই নয়। তারা নির্দিষ্ট একটি স্থানকে প্লুটো বা মৃত্যুর দেবতার স্থান, অর্থ্যাত্, নরক বলে চিহ্নিত করছিল। যেটার কাছেই সবসময় বিভিন্ন প্রাণীকে বলি দিত তারা। তবে বর্তমান প্রযুক্তির উত্কর্ষের মাধ্যমে জানা যায় যে, আসলে নরক নয়। বরং মাটির নীচে প্লুটোনিয়নের নীচের এক গুহা থেকে বেরোন প্রচন্ড তাপ আর বিষাক্ততাই এখানকার মানুষদেরকে ধারনা দিয়েছিল এ স্থানটিকে নরকের দরজা হিসেবে। তবে বলাও যায়না। কে জানে, যদি সত্যিই নরকে প্রবেশের রাস্তা এর পাশেই থাকে!

৩. মাসায়ার আগ্নেয়গিরি
১৬ শতকের আগের কথা। সেসময় নিকারাগুয়ার মাসায়ায় অবস্থিত মাসায়া আগ্নেয়গিরির পরিচিতি সবার কাছে ছিল নরকের দরজা হিসেবে। সেসময় এবং তার খানিক পরেও যে রোমান ক্যাথলিকের সভ্যরা ওখানে গিয়েছেন তাদের লেখা আর প্রমাণাদি দ্বারা এটাই পাওয়া যায় যে তারা শক্তভাবে বিশ্বাস করতে যে, এমন প্রচন্ড তাপ এমনি এমনি হতে পারেনা। এটা শয়তানেরই ছেড়ে দেওয়া আগুন। যেটা কিনা নরকের দরজাতেই একমাত্র সম্ভব। মাঝখানে সত্যিই এটি নরকের দরজা কিনা সেটা নিয়ে মানুষ কম অনুসন্ধান করেনি। ১৫২৯ সালে ফ্রে ফ্রান্সিসকো ডি বোবাডিলা ভ্রমণ করেন আগ্নেয়গিরির মুখের কাছে আর নিশ্চিত হন যে এটি আসলেই নরকের মুখ। এর পরেই অবশ্য বেশকিছু মানুষ আসেন পৃথিবীর এ দিকটাতে। যারা জানতেন আগ্নেয়গিরি কি। ধীরে ধীরে সবাইকে নরকের দরজার ভুল সম্পর্কে অবহিত করেন তারা। রোমান ক্যাথলিক জুয়ান ডি টরকুইমেন্ডা তো বলেই ফেলেন ঠাট্টা করে যে, আত্মারা যেকোন স্থানে ভেতরে দিয়ে চলাচল করতে পারে। আর তাই তাদের জন্যে নরকের আলাদা কোন দরজার দরকার পড়েনা। তবুও, দিনের পর দিন নানা ধর্মিয় গ্রন্থ ও বিভিন্ন স্থানে এ স্থানটিকে নরকের মুখ বলে অভিহিত করায় এখনো অব্দি অনেকেই মাসায়া আগ্নেয়গিরিকে নরকের সাথে সম্পৃক্ত বলে ধারণা করে থাকেন।

৪. দ্বীপের নরক
গল্পটা সেইন্ট প্যাট্রিককে নিয়ে। তখন ধর্মকে প্রচারের কাজে ব্যস্ত ছিলেন এই মানুষটি। তবে মানুষের অবিশ্বাস আর ঠাট্টাকে কোনভাবেই দূর করতে পারছিলেন না তিনি। এক সময় অবিশ্বাস আর সন্দেহের তীরে বিদ্ধ হয়ে হতাশ হয়ে পড়েন প্যাট্রিক। পূরাণ মতে তখন খ্রীষ্ট এসে তাকে স্টেশন দ্বীপের দিকে চালিত করে। সেখানে একটি গুআর ভেতরে থাক গর্তের মধ্যে প্যাট্রিক যান আর দেখেন সেই মানুষগুলোকে যারা নরকের আগুনে জ্বলছে। ১২ শতাব্দী পর্যন্ত ধর্মাবলম্বীদের কাছে আদর্শ স্থান হিসেবে থেকে যায় এই দ্বীপটি। এরপর আয়ারল্যান্ড সরকার বন্ধ করে দেন এই নরকের দরজাটিকে ( ফিলিপ কপেনস )। অবশ্য বন্ধ হয়ে গেলেও এখনো অব্দি নরকের দরজা হিসেবে পাওয়া খ্যাতি আর ভক্তদের দর্শন কোনটা থেকেই বঞ্চিত হয়নি এই দ্বীপটি আর দ্বীপের গুহাটি।