মেইন ম্যেনু

নরকে পৌঁছাবার বিখ্যাত যত রাস্তা

কে নরকে যেতে চায়? কেউ না। কিন্তু তারপরেও সেই প্রাচীনকাল থেকে নরকের রাস্তার খোঁজ করেছে অনেকেই। কেউ এর সত্যতা প্রমাণ করতে, কেউবা এমনিতেই। কোন কোন সময় নরকের দরজা এমনিতেই চলে এসেছে মানুষের সামনে। কিন্তু সত্যিই কি এমন কোন রাস্তা আছে পৃথিবীতে যেটা দিয়ে সোজা পৌঁছে যাওয়া যাবে নরকে? আসুন জেনে নিই।

১. রক্তের পুকুর

জাপানের বেপ্পু শহরটি সৌন্দর্যচর্চার পক্ষে অত্যন্ত সহায়ক একটি স্থান। কি নেই এখানে? স্পা, উপহারের দোকান, পুকুর। এমনকি নয়টি গরম পানির ফোয়ারাও রয়েছে এখানে। বৌদ্ধদের লিপিবদ্ধ তথ্য অনুযাযী এর জন্ম হয়েছিল ৭০০ সালে। বর্তমানে এগুলোর ভেতরের মাটি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যে অত্যন্ত সহায়ক বলে মনে করা হয়। তবে এই ঝর্ণাগুলোর কিন্তু এটি কেবল বাইরের রূপ। সেই প্রচীনকাল থেকে নরকের দরজা বলে মানা হয় এ স্থানটিকে। বলা হয় নরকের পুকুর ( আইওনাইন )। ব্লাডি হেল পন্ড নামের এই ফোয়ারার নীচে অবস্থিত পুকুরগুলো পানির অদ্ভুত লালচে রংই এর প্রধান কারণ বলে মনে করেন অনেকে ( সিএনএন )। সত্যি বলতে কি এক দেখাতে রক্ত বলেই মনে হবে এটিকে যে কারও। তবে আসলে এটি রক্ত নয়। বরং পানিতে আয়রনের মিশ্রণ। এছাড়াও নরকের সাথে তুলনা করার অন্যতম আরেকটি কারণ হিসেবে রয়েছে এর ভয়ংকর তাপমাত্রা। অনেকসময় ৭৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘুরপাক খায় এর তাপমাত্রা। এখানে পূর্বে কয়েদীদের সাজাও দিত শাসকেরা। তবে যে কারণেই হোক, বর্তমানে নরকের দরজা হিসেবে জাপানে সবচাইতে বিখ্যাত এই রক্তাক্ত পুকুরটিই।

২. রোমের নরক

পুরো ঘটনাটা জানা যায় রোমান ঐতিহাসিক লিভির জবানিতে। সেসময় এক বিশাল গহ্বর বা গর্ত ছিল রোমে। যেটার ভেতর যত মাটিই ফেলা হোক, যতকিছুই করা হোক, সেটা আর বন্ধ হত না। কোনভাবেই গর্তকে ভরতে না পেরে চিন্তায় পড়ে যায় তত্কালীন রোমান শাসক মার্কাস কার্শিয়াস। দৈববাণীতে বলা হয় এই গর্ত না ভরতে পারলে অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে রোম। নরকের দরজা বলে চিহ্নিত করা হয় একে। কিন্তু কি করে পূরণ করা যাবে এই বিশাল গহ্বরটি? অনেক খুঁজে-পেতে পাওয়া যায় উপায়। আর সেটি হচ্ছে বলিদান। না! কোন মানুষের নয়। রোমের শক্তির বলিদান। কি কারণে রোম এত শক্তিশালী? ভেবে উত্তর বের করেন মার্কাস। আর কিছু নয়, রোমের অস্ত্র আর শৌর্য-বীর্যই ছিল এর একমাত্র প্রচন্ড শক্তির মূলে।আর তাই নরকের দরজাকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্যে নিজেদের সব হাতিয়ার ফেলে দেন মার্কাস এই গর্তে, নিজেকে হাতিয়ারে পুরোপুরি সাজিয়ে একটি ঘোড়ার ওপর চড়ে বসেন আর সোজা নেমে পড়েন গর্তে। একেবরে নরকের ভেতরে গিয়ে থামেন তিনি। নিজেকে বলি দিয়ে রোমকে বাঁচান মার্কাস। বন্ধ হয়ে যায় বিশাল এই গহ্বর। মৃত্যুর দেবতাকে খুশি করতে বা নরকের সন্ধানে এখনো মানুষ চলে আসে এই লাকাস কার্শিয়াসে ( এটলাস অবস্কুরা )।

৩. পাহাড়ে নরক

গল্পটা অনেককাল আগের। হান রাজত্বের সময় তখন রাজকীয় সভায় কাজ করতেন ওয়াঙ্গ ফাঙ্গপিং আর ইন চাঙ্গশেঙ্গ নামের দুই কর্মচারী। হঠাত্ করেই কি মনে হল, কাজ কর্ম বাদ দিয়ে টাওয়িজমে সাধানা শুরু করলেন এই দুইজন মানুষ। আর ধীরে ধীরে একটা সময় হয়ে উঠলেন অমর। তাদের এই প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হয়েছিল ফেঙ্গডুতে। ফলে তাদের নামের ভয়ংকর প্রভাবের সাথে সাথে মানুষের মনে ভয় জন্ম নিতে থাকে ফেঙ্গডু পাহাড়কে নিয়েও। প্রায় ২,০০০ বছর ধরে ভূতুড়ে শহর নামে পরিচিত হয়ে থাকে এটি। শুধু তাই নয়, ফেঙ্গডুর পাহাড় মিঙ শানকে একটা সময় নরকের রাজা টিয়ানজির আবাসস্থল বলেও ধরে নেওয়া হয় ( আইওনাইন )। চীনের এই শহরটিকে বর্তমানে আত্মা আর মন্দিরের শহর বলে মনে করা হয়। যেখানে প্রবেশ করতে হলে মৃত হতে হবে মানুষকে। পার হতে হবে অসহায়ত্বের সেতু। দিতে হবে পরীক্ষা। করতে হবে নানা সমস্যার সমাধান। অবশ্য দরকার পড়লে জীবিত ব্যাক্তিরাও প্রবেশ করতে পারবেন এখানে। সেক্ষেত্রে সেতুকে পার করে শয়তানের মুখোমুখি হতে হবে তাদেরকে।

৪. নরকের সাত দরজা

শুনতে অদ্ভূত লাগলেও সত্যি যে অনেকে মনে করেন পেনসিলভেনিয়ার হেলাম টাউনশিপের ট্রাউট রান রোডের কাছেই রয়েছে নরকের সাত দরজা। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এই সাতটি দরজা যদি অতিক্রম করে ফেলে কোন মানুষ তাহলে সাথে সাথে নরকের ভেতরে নিজেকে আবিষ্কার করবে সে ( এটলাস অবস্কুরা )। তবে এখনো অব্দি কেউ পাঁচটি দরজার বেশি পার হয়নি। কিংবা বলা ভালো যে সাহস পায়নি। তবে এই দরজা খুঁজে বের করা বা এর বর্তমান সত্যতা নিয়ে বেশ দ্বিধা-দ্বন্ধ রয়েছে সবার ভেতরে। হেলাম টাউনশিপের ভেতরে এখনো অব্দি এরকম কোন স্থান পাওয়া যায়নি। অন্তত সেখানকার মানচিত্রে তো নয়ই। চিহ্নিত স্থানটিতে রয়েছে কেবল একটি মাত্র দরজা। আর সেটাও একজন চিকিত্সক তার সম্পত্তি থেকে মানুষের অবাধ বিচরণ রোধ করতেই তৈরি করেছিলেন। অনেকে অবশ্য নরকের মতনই এই দরজাগুলোকেও অদৃশ্য বলে মনে করেন। শুধু আমেরিকার জনগনই নয়, ভুডুতে বিশ্বাসী ও ভুডু সাধনাকারীদের মতে পৃথিবীর ভেতরে নরকে প্রবেশের অন্যতম উত্তম কোন স্থান যদি থেকে থাকে সেটি হচ্ছে এই নরকের সাত দরজা বা সেভেন গেইট অব হেল। আর সত্যি বলতে কি আমেরিকার ভেতরে বাস্তবিকভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নরকের দরজা রয়েছে এই একটিই স্থানে। তাই দৃশ্যমান হোক, কিংবা অদৃশ্য, সবসময়েই অনুসন্ধানকারীদের ভীড়ে ভরা থাকে স্থানটি।