মেইন ম্যেনু

নাক ডাকা হচ্ছে মূলত ৩ টি রোগের লক্ষণ!

ঘুমের মাঝে নাক ডাকাকে আমরা বেশ সাধারণ একটি ঘটনা বলেই মনে করে থাকি। সেজন্য যিনি নাক ডাকেন তার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে কিংবা হাসি ঠাট্টা করেই চুপ হয়ে যাই আমরা।

কিন্তু নাক ডাকা বিষয়টাকে আমরা যত সহজভাবে মেনে নেই ঠিক তত সহজ নয় এটি। দেহে বাসা বাঁধা বিভিন্ন রোগের লক্ষন এই নাক ডাকা।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে নাক ডাকাকে আমরা যতই ঘুমের একটি স্বাভাবিক ক্রিয়া হিসেবে মনে করে থাকি না কেন আসলে এটি দেহের অস্বাভাবিকতাই প্রকাশ করে।

আমাদের জানতে হবে কোন কোন রোগের লক্ষণ এই নাক ডাকা। এবং যত দ্রুত সম্ভব সেই রোগের চিকিৎসা নেয়া। আসুন তবে জেনে নেই ঘুমের মাঝে নাক ডাকার অভ্যাসটি কী কী রোগের লক্ষণ হতে পারে।

*নাক ডাকা অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগের লক্ষণ

অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া একটি ঘুম সংক্রান্ত রোগ। এই রোগে আক্রান্ত মানুষের ঘুমানোর সময় শ্বাসনালীর মধ্য দিয়ে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্থ হয় বলে উচ্চ শব্দে নাক ডাকার অভ্যাস হয়। এই রোগটি শ্বাসনালীর রোগের সাথে সম্পৃক্ত।

যারা ধূমপান ও মদ্যপান করেন তাদের শ্বাসনালীর সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। এবং নিঃশ্বাসে সমস্যা শুরু হয়। সুতরাং উচ্চ শব্দে নাক ডাকা এবং ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট হওয়া মারাত্মক একটি রোগের লক্ষণ। এই রোগে আক্রান্ত মানুষকে বিষণ্ণতা

রোগ এবং স্মৃতিভ্রষ্ট রোগে পড়তে দেখা যায়। তাই দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

*নাক ডাকা উচ্চ রক্তচাপ রোগের লক্ষণ যাদের ঘুমের মাঝে নাক ডাকার অভ্যাস আছে তারা প্রায় প্রত্যেকেই উচ্চ রক্তচাপ সমস্যায় ভোগেন। মস্তিস্কের ধমনীতে ব্লক হবার কারণে ঘুমানোর সময় নাক ডাকানোর অভ্যাসের সৃষ্টি হয়। মস্তিস্কের ধমনীতে ব্লক উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে তৈরি হয়। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বেড়ে চললে পরবর্তীতে ব্রেইন স্ট্রোকের সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাই নাক ডাকার অভ্যাসটিকে অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করুন।

*কার্ডিওভ্যাসক্যুলার রোগসমূহের লক্ষণ নাক ডাকা

যাদের একটু বাড়তি ওজন আছে তাদের বেশীরভাগ সময় নাক ডাকতে দেখা যায়। এর কারণ হলো মেদ জমে শ্বাসনালীর ব্যাস কমে আসে ফলে ঠিকমত শ্বাস প্রশ্বাস নেয়া যায় না। ঘুমের মাঝে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়।

ফলে নাক ডাকা শুরু হয়। মস্তিস্কের ধমনীতে চাপ পড়ার ফলে কিংবা মেদ জমে এতে শ্বাসনালীর ব্যাস কমে আসার কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ ঠিকমত হয় না। এতে দেহের ক্রিয়াকর্ম ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর এ কারণে কার্ডিওভ্যাসক্যুলার সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাই ঘুমের মাঝে নাক ডাকাকে অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওজন কমাতে সচেষ্ট হোন।