মেইন ম্যেনু

নাজিম হত্যা : মামলা হয়নি এখনো

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার মুক্তমনা ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, নিহতের পরিবার থানায় আসলেই মামলা নথিভুক্ত হবে। নিহতের বাড়ি সিলেটের বিয়ানিবাজারে।

সূত্রাপুর থানা পুলিশ জানায়, মামলা না হলেও তদন্ত চলছে। ঘটনার পেছনে কে বা কাদের যোগসাজশ রয়েছে, কীভাবে নাজিম খুন হলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলা হলে তদন্তে আরো গতি আসবে।

গত বুধবার রাত ৯টার দিকে সূত্রাপুরের একরামপুর মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তদের চাপাতির কোপে ও পরে গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান নাজিমুদ্দিন। তার মাথার ডান পাশের খুলি উড়ে গেছে।

নাজিমউদ্দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের সিলেট জেলা শাখার তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন।

নাজিমুদ্দিন সামাদের ওপর আক্রমণের সময় তার সঙ্গে থাকা বেসরকারি সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নাজিবের ওপরও আক্রমণ হয়। সৌভাগ্যক্রমে নাজিব বেঁচে যান।

লক্ষীবাজারের কাছের একটি মেসে থাকতেন নাজিম। রাতে তিন বন্ধুকে নিয়ে ভিক্টোরিয়া পার্কের উদ্দেশে বের হলে ঋষিকেশ দাশ লেনে অজ্ঞাত যুবকরা তাকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে।

গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষে ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার থাকায় বেশ কয়েকবার হামলার আশঙ্কা করেছিলেন নাজিমুদ্দিন সামাদ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সূত্রাপুর থানার ওসি (তদন্ত) সমির চন্দ্র সুত্রধর বলেন, নিহত নাজিমুদ্দিন শিক্ষক, বন্ধু ও প্রিয়জনদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন শুনছি। কিন্তু তিনি পুলিশে কখনো জানাননি। থানায় কোনো অভিযোগও দায়ের করেননি।

নাজিম হত্যায় এখনো মামলা হয়নি উল্লেখ করে এ কর্মকর্তা বলেন, মামলা প্রক্রিয়াধীন। নিহতের পরিবার সিলেট থেকে ঢাকায় আসছেন। তারা থানায় এলেই মামলা দায়ের করা হবে।

ওসি আরো জানান, আমরা তদন্ত করছি। সম্ভাব্য সব ধরনের কারণ ধরেই তদন্ত চলছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

এদিকে নাজিম খুনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষর্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।