মেইন ম্যেনু

নাটকীয় জয়ে শুরু ব্রাজিলের

কোপা আমেরিকায় অন্যকম ফেভারিট তারা। বিশেষ করে গত বিশ্বকাপের এর একটি বছর কার্লোস দুঙ্গার অধীনে দুর্দান্ত ফমে রয়েছে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। টানা ১০টি ম্যাচ জিতেছে সেলেসাওরা। কোপা আমেরিকায়ও সে ধরণের অসাধারণ কিছু করে দেখানোর প্রত্যাশায় ছিল ব্রাজিল সমর্থকরা।

তবে, যতটা ধারনা করা হয়েছিল ততটা মসৃন নয় কোপায় ব্রাজিলের পথ চলা। কোপা আমেরিকার প্রথম ম্যাচেই পেরুর বিপক্ষে কার্লোস দুঙ্গার ছেলেরা জয় পেয়েছে ঠিক- তবে তা বেশ নাটকীয় এবং কষ্টার্জিত। আর্জেন্টিনার মতই পয়েন্ট খ্ইুয়ে শুরু করার একেবারে দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছিল ব্রাজিলের ম্যাচটি।

দর্শকদের যারা আসন ছেড়ে উঠে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হচ্ছে মনে করে। তাদের হঠাৎ করেই বসে পড়তে হয়েছে। তখনই যে ব্রাজিলের ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হলেন সুপার সাব ডগলাস কস্তা। ৯২ মিনিটে করা তার গোলটিই ব্রাজিলকে জয় দিয়ে শুভসূচনা এনে দিল। শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে ২-১ গোলে হারিয়েছে হলুদ শিবির। এ নিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জিতল দুঙ্গার ব্রাজিল।

যে স্টেডিয়ামটিতে খেলা হয়েছে তার নাম উচ্চারণ করতেও দাঁত ভেঙে যাওয়ার কথা। এস্টাডিও মিউনিসিপ্যাল বিসেন্তেনারিও জার্মান বেকার। গ্যালারিটাও বেশ বড় নয়। বড় জোর সাড়ে ১৬ থেকে ১৭ হাজার দর্শক ধারণ করতে পারে। ব্রাজিল-পেরু ম্যাচটি দেখার জন্য গ্যালারি ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের হতাশ হতে হয়নি।

খেলার শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিল ব্রাজিল। কিক অফের বাঁশি বাজতে না বাজতেই গোল হজম করে বসে তার তিন মিনিটের মাথায় নিজেদের ভুলেই দুর্ঘটনার শিকার হয় ব্রাজিল। ডেভিড লুইজ একটি ব্যাক পাস দেন গোলরক্ষক জেফারসনকে। কিন্তু গোলরক্ষক সেটা ক্লিয়ার করতে পারেননি। সুযোগের সন্ধানে থাকা ক্রিশ্চিয়ান কুয়েভাস বল কেড়ে নিয়ে ডান পায়ের শটে ব্রাজিলের জালে বল জড়ান।

১-০ গোলে অবশ্য বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি। এর মাত্র ২ মিনিট পরই (৫ মিনিটে) ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান নেইমার। দানি আলভেসের ক্রস থেকে দারুন এক হেডে গোলটি করেন বার্সার এই স্ট্রাইকার। এর শুধুই হতাশা। প্রথমার্ধ শেষ হয়ে দ্বিতীয়ার্ধও শেষ হওয়ার দিকে। কিন্তু আর প্রতিপক্ষের জালই খুঁজে পাচ্ছিল না ব্রাজিল।

খেলা শেষ হবে হবে করছিল, ড্র মেনে নেওয়ারও যেন প্রস্তুতি নিচ্ছিল ব্রাজিল সমর্থকরা। এমন সময়ই পেরুর সাথে পার্থক্য গড়ে দেন নেইমার। চারজন ডিফেন্ডারকে কাটান তিনি। এরপরই অসাধারণ এক পাস দেন শাখতার দোনেৎস্ক মিডফিল্ডার ডগলাস কস্তাকে। গোলরক্ষক ছাড়া তার সামনে আর তখন কেউ ছিল না এবং কোন ভুল করলেন না কস্তা। বলটি জড়িয়ে দিলেন পেরুর জালে।

ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘আমরা আশাই করেছিলাম কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীতার মুখোমুখি হবো। এসব টুর্নামেন্টে আসলে এমনই হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকায়। এখানে কাউকেই পিছিয়ে রাখা যায় না। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমরা ভালো খেলেছি। আর জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করাটা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ।’