মেইন ম্যেনু

নানা কৌশলে তারা মেয়েদেরকে যৌন পেশায় লিপ্ত করাচ্ছে

প্রভাবশালী বাড়িওয়ালীদের ছত্রছায়ায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দালালের মাধ্যমে নানা কৌশলে মেয়েদেরকে ফুঁসলিয়ে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে এনে তাদেরকে অমানবিক নির্যাতন করে যৌন পেশায় লিপ্ত করা হচ্ছে। এদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের অপ্রাপ্ত বয়সী শিশুকিশোরী ও গার্মেন্টেস কর্মী।

গত এক সপ্তাহে এখান থেকে ৪ জন কিশোরী-তরুনীকে উদ্ধার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নারীপাচারকারী চক্রের দালালরা তাদেরকে বিভিন্ন স্থান থেকে ভাল চাকরি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুঁসলিয়ে এনে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করেছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের বৃহত্তম দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বর্তমান প্রায় ৪ হাজার যৌনকর্মী রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক যৌনকর্মী অপ্রাপ্ত বয়সী শিশু-কিশোরী। যাদেরকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুরুষ ও নারী দালালরা বিভিন্ন কৌশলে ফুঁসলিয়ে এনে তাদেরকে এই যৌনপল্লীতে বাড়িওয়ালী-বাড়িওয়ালাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করেছে।

যৌনপল্লী সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে প্রতিমাসে গড়ে অন্তত বিশ জন করে নতুন নতুন শিশুকিশোরীকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে এনে তাদেরকে নির্যাতনের মাধ্যমে যৌনপেশায় নিয়োজিত করতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ অপ্রাপ্ত বয়সী মেয়েদেরকে যৌনপেশায় লিপ্ত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও আইনের চোখকে ধুলো দিয়ে শিশু-কিশোরীদের যৌনপেশায় লিপ্ত করে পল্লীর অধিকাংশ বাড়িওয়ালী প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা কামিয়ে নিচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে তাদেরকে সহযোগিতা করছেন অসাধু কিছু আইনজীবি। গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে নারায়নগঞ্জ বন্দর, খুলনা রূপশা, ঢাকা কেরানীগঞ্জ এলাকার ৪ জন কিশোরী-তরুনীকে ফুঁসলিয়ে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করা হয়। এসময় তাদেরকে জেরপূর্বক যৌন পেশা লিপ্ত করার অপরাধে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম শাহ্জালাল বলেন, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীকে ঘিরে সারা দেশে অন্তত শতাধিক নারী ও পুরুষ দালাল সক্রিয় রয়েছে। তারা অসহায় মেয়েদের অসহাত্বের সুযোগ নিয়ে ভাল কাজ বা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দিয়ে চলে যায়।

এতে ওই মেয়েকে উদ্ধার করা হলেও দালালকে গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে যায়। তাদের সঠিক নাম ঠিকানাও পাওয়া যায় না। তবে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বাড়িওয়ালীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশু পাচারকারি চক্রের পলাতক দালালদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশ কাজ করছে।