মেইন ম্যেনু

মামলা দায়ের, গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী

নানা বিধ কারনে কলারোয়ার কৃষকেরা ঋণ পরিশোধ করছেন না

প্রাকৃতিক দূর্য্যােগ,ঋন পরিশোধে অনিহা,একাধিক ঋন সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান সহ নানা বিধ কারনে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলায় কৃষকদের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা করে ও বকেয়া ঋন আদায় করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

কলারোয়া উপজেলা বি আর ডি বি অফিস এর একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, ঐ অফিস থেকে মোট ৩৯ হাজার ২ শ’ ৩৬ জন সদস্য কে ঋন প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ঋন খেলাফী সদস্য সংখ্যা ১৬৭ জন। দীর্ঘ দিন ধরে ঋনের টাকা ফেরৎ দেয়নি ঐ সমস্ত ঋণ খেলাফীরা। অনেকটা বাধ্য হয়েই অফিস ঋন ফেরৎ পাওয়ার জন্য ৫৫ জন কৃষকের বিরুদ্ধে সাটিফিকেট মামলা দায়ের করেছে। তাদের কাছে অফিস টির পাওনা রয়েছে ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বি আর ডি বি কলারোয়া অফিস থেকে গাভী পালন,ক্ষুদ্র ব্যবসা সহ অস্বসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের স্বচ্ছল করে তোলার লক্ষে ঋন দিয়ে থাকে। মামলা করার পর ৪টি মামলার নিস্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে ঐ অফিসটির খেলাপী ঋণের পরিমান ৬ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা।

কলায়োর শুধু বি আর ডি বি অফিস থেকে নয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, একটি বাড়ি একটি খামার,মৎস অফিস,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋনও চাষীরা ঠিক মত পরিশোধ করছেন না। কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে পাওয়া একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ৪২০ জন কৃষকের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা রয়েছে। তাদের কাছে পাওনা আছে ৭৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৪৪৩ টাকা। এর মধ্যে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হয়েছে ২৫০ জনের নামে। ঐ মামলা গুলো ১৯৯৩ সাল থেকে চলে আসছে।

মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হওয়ার পরও কেন ঋনের বকেয়া টাকা আদায় হচ্ছে না এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সার্টিফিকেট কোর্টের একজন ম্যাজিসট্রেড এর কাছে কারন জানতে চাইলে তিনি নাম না প্রকাশের সর্তে জানান, গ্রেফতারী পরোয়ানা ঠিকমত তামিল না হওয়াটাই হলো ঋনের বকেয়া টাকা আদায় না হওয়ার একমাত্র কারন। তিনি আরো জানান, গ্রামের সহজ সরল কৃষকেরা সব সময়ই মামলা দায়ের, গ্রেফতারী পরোয়ানা এবং পুলিশকে ভীষন ভয় পায়। কোর্ট থেকে নোটিশ গেলে তারা এলাকার রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে আগে ছোটে। নেতারা লোন পরিশোধ না করতে আাগ্রহ দেখায়। অথচ কৃষকেরা কোর্টে আসলে অনেক সময় বুঝে শুনে কিস্তি আকারে লোন পরিশোধ করার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি আরো জানান, গ্রেফতারী পরোয়ানা ঠিক মত তামিল হলেই কেবল ঐ সমস্ত বকেয়া টাকা আদায় করা সম্ভব।

গ্রেফতারী পরোয়ানা কেন যথাযথ তামিল হচ্ছে না এ ব্যাপারে কলারায়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, কলারোয়া থানায় সর্টিফিকেট মামলার কোন ওয়ারেন্ট নাই। থাকলে তিনি অবশ্যই তাদেরকে গ্রেফতার করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।