মেইন ম্যেনু

নামাজই পড়ে না আটক ২ আইএস সমর্থক!

আইএস ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নামে প্রচারণা ও হুমকি দেয়ার অভিযোগে নাহিদ হোসেন ও আব্দুল হককে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তথাকথিত ‘ইসলামী খেলাফতের পক্ষে’ এ দুজন প্রপাগান্ডা চালালেও এরা দুজনই নামাজ পড়েন না। সারাদিন ইন্টারনেট নিয়ে মেতে থাকেন আর আইএস-আনসারুল্লাহর নামে জিহাদি কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে নাহিদ হোসেন ও তেজগাঁও এলাকা থেকে আব্দুল হককে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

আজ (বুধবার সকালে) এ দুজনের আটকের খবর সাংবাদিকদের জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মুনতাসিরুল ইসলাম।

পরে সকাল সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আটক দুজন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

মনিরুল ইসলাম বলেন, “আটককৃতের আসল নাম নাহিদ হোসেন। তিনি ফেসবুকসহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ‘জিহাদি জন’ ছদ্মনামে লিখতেন। ফেসবুকে নিজেকে আইএসের সক্রিয় সদস্য দাবি করে আইএসের পক্ষে উসকানিমূলক প্রচারণা চালাতেন।’

তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে আইএসের লোগোসহ ইসলামিক স্টেট- দাওআ আল ইসলামিয়া নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে কথিত আইএসের পক্ষে বাংলায় বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট দিতেন। ওই পেজটির অ্যাডমিন তিনি নিজেই। আইএসের পক্ষে তিনি ওই পেজের মাধ্যমে দেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করতেন।’

এ ছাড়া ‘শিয়া কাফের’ ‘খালিদ বিন ওয়ালিদ’ আইডি ব্যবহার করতেন নাহিদ। নিজেকে পরিচয় দিতেন ‘আর্মি ক্যাপ্টেন অ্যাট খেলাফত’ নামে। ফেসবুকে গ্রুপ তৈরি করে তিনি আইএসের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রচারণা চালাতেন।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে নাহিদ হোসেনের সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকলেও তিনি সমর্থক ছিলেন। ইন্টারনেটে আইএস সম্পর্কে লেখাপড়া করে তিনি অনুরক্ত হন। তবে সবচেয়ে মজার খবর হলো, ইসলামের সমর্থনে প্রচারণা চালালেও নিজে ধর্মকর্মই পালন করতেন না।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নাহিদ বেসিক্যালি ধর্মকর্মও পালন করেন না। তার কাছে যে মোবাইল পাওয়া গেছে সেখানে অনেক অশ্লীল পর্নো পাওয়া গেছে, যেগুলো ইসলামের সাথে যায় না।’

নাহিদের ‘চরিত্রের’ সঙ্গে আটক সাবেক মাদরাসা শিক্ষক আব্দুল হকের রয়েছে দারুণ মিল। মুখভর্তি দাড়ি আর ইসলামী আলখেল্লা পরিহিত হলেও নামাজ পড়তেন না বলে জানিয়েছেন মনিরুল ইসলাম। তবে প্রযুক্তিতে খুব দক্ষ তিনি, আর যা আয়ত্ত করেছেন নিজে নিজেই।

আব্দুল হককে ‘ডেভিল জিনিয়াস’ উল্লেখ করে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মাদরাসার শিক্ষক হলেও তার দুর্দান্ত প্রযুক্তি জ্ঞান আছে। তিনি ইংরেজিতে খুবই দক্ষ। এর সবকিছুই তিনি ব্যক্তিগত চর্চার মাধ্যমে অর্জন করেছেন। তিনি নিজে নামাজ পড়েন না।’

নাহিদ হোসেনের মতো আব্দুল হকও ইন্টারনেটে আইএস ও আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের বিভিন্ন পোস্ট বা লেখা পড়ে ‘খেলাফত ভাবধারায়’ উদ্বুদ্ধ হন।

শুধু নামাজ পড়তেন না তা-ই নয়, স্বভাবে দুশ্চরিত্রের ছিলেন আব্দুল হক। মনিরুল ইসলাম জানান, আব্দুল হকের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়। তিনি জকিগঞ্জের শাহবাগ এলাকার জমিয়াতুল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি দুশ্চরিত্রের মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। চরিত্রহীন কার্মকাণ্ডের কারণে তাকে মাদরাসার চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে অপরকে ফাঁসাতে আব্দুল হক দেশের বিশিষ্ট লেখক, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদদের মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সরকারের জাঁদরেল মন্ত্রীরাও। এমনটাই জানান গোয়েন্দা বিভাগের এই কর্মকর্তা।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আব্দুল হক ফাইজুর রহমান, সালেহ আহমেদ ফুয়াদ ও মাওলানা সাদ উল্লাহ- এই তিন নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে সক্রিয় ছিলেন। স্পুফিং (এক ঠিকানার বদলে গোপনে অন্য ঠিকানায় নিয়ে যাওয়া) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি হুমকি দিয়ে আসছিলেন।’

এদিকে, নাহিদ হোসেন দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য ‘নানা ধরনের পরিকল্পনা’ নিয়েছিলেন বলে জানান মনিরুল ইসলাম। তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইল আরও পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য উদ্ধার করা যাবে বলেন জানান এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।