মেইন ম্যেনু

নামাজ নিয়ে ইফার ফতোয়ায় ‘অবাক’ প্রধানমন্ত্রী

‘চেয়ারে বসে নামাজ পড়া বৈধ নয়’ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) জারি করা নতুন এ ফাতওয়ার (ফতোয়া) কথা শুনে অবাক হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকার প্রধান এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জারি করা নতুন ফাতওয়ার বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভার এক সিনিয়র মন্ত্রী কথা তুললে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার আরও কয়েক সদস্য সেই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভার দুই সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, মন্ত্রিসভার অনির্ধারিত আলোচনার সময় গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন ফাতওয়ার প্রসঙ্গটি তোলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চেয়ারে বসে নামাজ পড়া যদি বৈধ না হয় তাহলে অসুস্থ ব্যক্তিদের কি অবস্থা হবে?’ কয়েকজন মন্ত্রীও এ আলোচনায় অংশ নেন। তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে ব্যাখ্যা দেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠক সূত্র জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন মন্ত্রী চেয়ারে বসে নামাজ আদায়কারী মন্ত্রীদের ইঙ্গিত করে আলোচনা করেন। মন্ত্রীদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামানিকসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী চেয়ারে বসে নামাজ পড়েন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর বাইরে আর কোনো মন্তব্য করেননি।

ফাতওয়ায় যা আছে : রবিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্যাডে ‘পীড়িত অবস্থা ও চেয়ারে বসে নামাজ আদায় প্রসঙ্গ’ সংক্রান্ত একটি ফাতওয়া গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের মুফতি মোহাম্মদ আবদুল্লাহর স্বাক্ষর রয়েছে।

[ইফার পাঠানো চিঠি পড়তে ক্লিক করুন]

১২টি পয়েন্টে মুফতি আবদুল্লাহ চেয়ারে বসে নামাজ পড়া কেন বৈধ নয় তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সহীহ বোখারী, সহীহ মুসলিম ও আবু দাউদসহ ১১টি সূত্র তিনি উল্লেখ করেছেন।

ফাতওয়ার পাঁচ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘মসজিদে চেয়ার ঢুকিয়ে তাতে আসন গ্রহণ করা, রাজাধিরাজ, শাহানশাহ আহকামুল-হাকেমীন এর শাহী দরবারের আদব পরিপন্থী বিধায় তা বৈধ নয় এবং তাতে বসে নামাজ আদায়ও বৈধ নয়’।

এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘এ পর্যন্ত ধর্মীয় গ্রন্থ বা লিখিত রূপে চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার কোনো রেফারেন্স পাওয়া যায়নি। এ কারণেই ফাতওয়া দিয়েছি। এটাই ঠিক।’

তবে ফাতওয়াতে উল্লিখিত পয়েন্টের কয়েকটিতে অর্থগত বিরোধিতা লক্ষ্য করা গেছে। মূল বিষয় হিসেবে চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার বিষয়টিকে ‘বৈধ নয়’ বলে উল্লেখ করলেও কোথাও অবৈধ দাবি করা হয়নি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেওয়া পয়েন্টগুলোর ছয় ও সাত নম্বরে ‘মসজিদে চেয়ার ঢুকানো ঠিক নয়’ উল্লেখ করা হয়েছে। আবার আট নম্বর পয়েন্টে ‘একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদে চেয়ারের আসন পাতায় বিধর্মীদের সঙ্গে সাদৃশ্য হয়ে থাকে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গণমাধ্যমে পাঠানো ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফাতওয়া সংক্রান্ত চিঠিটি চলতি বছরের ১৯ মার্চ স্বাক্ষরিত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাসেম বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) চিঠিটি আমাকে দিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। তাই আমি এটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছি। এর বাইরে আমার কিছু জানা নাই।’

অসুস্থতাজনিত কারণে মসজিদে চেয়ার পেতে নামাজ পড়ার দৃশ্য অনেক মসজিদেই দেখা যায়। বহুল চর্চিত এ বিষয় নিয়ে জাতীয়ভাবে ইফা থেকে সিদ্ধান্ত আসলেও এর পেছনে মূলত মুফতি আবদুল্লাহই কাজ করেছেন বলে শিকার করেছেন তিনি নিজেই।

তার ভাষ্য, ‘ষোল কোটি মানুষের একমাত্র সরকারি মুফতি আমি। তবে এ সিদ্ধান্ত আমার গবেষণার ফল হলেও এটি আমার আরও দুই সহকর্মীসহ ইফা’র মহাপরিচালকের অনুমোদন রয়েছে।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের সঙ্গে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।