মেইন ম্যেনু

নারদ কেলেঙ্কারি: এবার দুই নেতার ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ফাঁস

প্রথম দফায় জালে পড়েছিলেন ১১ জন। দ্বিতীয় দফায় ধরা পড়লেন আরো দুজন। সোমবার নারদ নিউজের পক্ষ থেকে স্টিং অপারেশনের ভিডিও ফুটেজ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তৃণমূলের আরামবাগের বিধায়ক অপরূপা পোদ্দারকে দেখা গেছে ক্যামেরার ওপারে থাকা নারদ নিউজের প্রতিনিধির কাছ থেকে টাকা নিতে। তৃণমূল নেতা শঙ্কুদেব পাণ্ডা ঘুষ না নিলেও তাকে কোনো একটি সংস্থার অংশীদারত্ব চেয়ে দরাদরি করতে দেখা গেছে।

গত ১৪ মার্চ দিল্লিতে তৃণমূলের ১১ মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কের ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য ফাঁস করে নারদ নিউজ। ওই সময় নারদ নিউজের প্রধান ম্যাথু স্যামুয়েল বলেছিলেন, তাদের কাছে আরো বিস্ফোরক ছবি রয়েছে। প্রয়োজনীয় সম্পাদনার পরে তা প্রকাশ করবেন।

সোমবার প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, অপরূপা নীল চুড়িদার পরে খাটের ওপর বসে রয়েছেন। গায়ে ডোরাকাটা টারকোয়াইজ রঙের ওড়না। সামনে রাখা টাকার তোড়া। মুখে হাসি ঝুলিয়ে বলছেন, ‘আমি জীবনে এসব খুলতে পারি না। এসব শাগিরের কাজ।’ নারদ নিউজের প্রতিনিধিকে তখন বলতে শোনা যায়, ‘‘ঠিক আছে দুই লাখ দিয়ে দাও। আমি আপনাকে এক লাখ দেব। ব্যাগ আছে তো আপনার?’ অপরূপা তখন ফোনে কাউকে বলেন, ‘সুগন্ধা আমার ব্যাগটা একটু নিয়ে আসুন। আমার পার্সটা… হ্যাঁ শুধু ব্ল্যাক কালারেরটা।’

ইন্টারনেটে এই ফুটেজ ছড়ানোর পরে আঠাশে পা-দিয়েই লোকসভায় পৌঁছে নজর-কাড়া অপরূপা বলেন, ‘ঘুষ ও ডোনেশনের মধ্যে তো একটা ফারাক রয়েছে। কেউ যদি বলে অপরূপা তোমার নির্বাচনের জন্য ১০ হাজার টাকা নাও, এর মধ্যে অপরাধটা কোথায়?’ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তার দাবি, ‘যদি ফুটেজে প্রমাণ করা যায় যে আমি টাকা নিয়েছি, তা হলে সাত দিনের মধ্যে ইস্তফা দেব।’

অপরূপা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেও মুখে কুলুপ এঁটেছেন শঙ্কুদেব। ভিডিওতে দেখা গেছে, করপোরেট সংস্থার অংশীদারির বিনিময়ে তিনি সব রকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন নারদের প্রতিনিধিকে। শঙ্কুদেব বলছেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে আছি। তাদের সঙ্গে আলোচনার পর যদি আপনার কাজ হয়ে যায়, তাতে আমার কী লাভ হবে? এভাবেই কথাবার্তা এগোতে থাকে কিছুক্ষণ। একসময় শঙ্কুকে বলতে শোনা যায়, আমি অংশীদারত্ব চাই। আমার কোনো পেশা নেই এখন। আমি যদি ভবিষ্যতে রাজনীতিতে থাকতে চাই, আমাকে তো কিছু করতে হবে। এটাই আমার ব্যবসা হবে।’