মেইন ম্যেনু

নারীতে শাড়িতে পূজা

শারদ ছোঁয়াই দুর্গাদেবীর আরধনা। এসময় মেয়েদের সাজে থাকা চাই বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বাঙালীয়ানা সে সাজে বরাবরই প্রাধান্য পেয়েছে রাবীন্দ্রিক আবহ। কারণ, সাহিত্যের সঙ্গে কবিগুরুর পারিবারিক জীবনাচরন বাঙালির সাজ পোশাকের জন্য হয়েছে যুগে যুগে অনুকরনীয়। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বী বাঙালি মেয়ের কাছে যেন শাড়িই প্রথম পছন্দ। এ যেন নারীতে শাড়িতেই পূর্ণ পূজার আয়োজন। এবারের পূজায় কোন দিন কী শাড়ি পরবেন তা ভেবে রাখা উচিৎ এখনি। সৌন্দর্য সৌখিন মেয়েরা এমন ভাবনায় পিছিয়ে নয় কখনো। তাই আসুন দেখে নেয়া যাক।

ষষ্ঠীতে সুতি

এই দিনে প্রিন্টের সুতির শাড়ি পরে দেওয়া হয় ঘটপূজা। শাড়িতে থাকতে পারে নানা নকশা। ভিন্নতা আনতে শাড়ির আঁচল ও কুচিতে থাকতে পারে একই ডিজাইন। জমিনের ডিজাইন হতে পারে একেবারেই সাদামাটা। বিশেষ করে তাঁতের নানা ধরনের শাড়িই পূজার জন্য উপযুক্ত বটে। বর্তমানে মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ফুলেল মোটিফ। এছাড়া প্রিন্ট, জ্যামিতিক নকশা, জামদানি প্রিন্ট ও স্ট্রাইপ। এবারের পূজার সুতির শাড়িতে শেডের ব্যবহারও বেশ চোখে পড়ছে। শাড়ির উপরে ও নিচে একই রংয়ের ২টি আলাদা শেড থাকতে পারে। প্রিন্টের শাড়িতে একটু জমকালোভাব আনতে চাইলে বেছে নিতে পারেন সুতার নকশা করা পাড়ের শাড়ি। ভিন্নতা চাইলে নিতে পারেন বাটিকের শাড়ি। একরঙা পাড় বা পাড় ছাড়া ভেজিটেবল ডাইয়ের বাটিক শাড়ি এ দিনে বেশ মানাবে। ছয়শত থেকে ১ হাজার ২শত টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন ষষ্ঠীর সুতির শাড়ি।

সপ্তমীতে চওড়া পাড়ের শাড়ি

এ দিনে বেছে নিতে পারেন চওড়া পাড়ের একরঙা শাড়ি। শুধু পাড়-আঁচলেই নানান এক্সপেরিমেন্টে ভরা কাতান, সিল্ক, অ্যান্ডি, তসর, মসলিন কিংবা কোটার শাড়ি হতে পারে আপনার বাছাই করা শাড়ির একটি। এসব শাড়িতে নিজস্ব পাড় তো থাকছেই, কিছু শাড়িতে আবার লেসের ব্যবহারেও বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করেছে। সিল্ক, তসর বা মসলিন শাড়িতে প্যাচওয়ার্কের বেশ চোখে পড়ে। পাড়ে সুতার কাজ ছাড়াও এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্টের সঙ্গে হাতের কাজ, জরি, পুঁতি বা চুমকির কাজও রয়েছে। কোটার শাড়িতে আলগা পাড় বসিয়েও ডিজাইন হচ্ছে। এ ধরনের পাড়ের শাড়িতে চওড়া লেসের ব্যবহার বেশ চোখে পড়ে। ডিজাইনে খানিকটা নতুনত্ব আনতে কিছু শাড়ির পাড়ে পাইপিন ও আলাদাভাবে তৈরি অন্য রংয়ের পাড়ও বসানো হয়েছে। সপ্তমীর জন্য উজ্জ্বল যে কোনো একরঙা পাড়ের শাড়ি বেছে নিন। ডিজাইনভেদে এ ধরনের শাড়ির দাম পড়বে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

অষ্টমীতে লাল-সাদা

দুর্গাপূজার সাজই যেন লাল-সাদায় আবদ্ধ। এটি ছাড়া সাজ পূর্ণই হয় না। অষ্টমীর দিন থাকে আবার কুমারী পূজা। এই দিন বেছে নিন লাল পাড়ের সাদা শাড়ি। শুধু পাড়েই নয়, আঁচলেও থাকবে লালের ছোঁয়া। বেছে নিতে পারেন জামদানি, সিল্ক বা গরদ শাড়ি। এসব শাড়িতে পাড় আর আঁচলটাই বেশি গুরুত্ব পাবে। তবে জমিনেও থাকতে পারে হালকা কাজ। গরদের শাড়িতে তেমন কোনো ডিজাইন হয় না। কাপড়টাই প্রধান আকর্ষণ। তবে সিল্কের শাড়িতে বেশ ডিজাইন বৈচিত্র্য চোখে পড়ে। পিওর ও অ্যান্ডি সিল্কের সাদা-লাল শাড়িতে থাকছে এমব্রয়ডারি, ছোট বিটস, চুমকি ও অ্যাপ্লিকের কাজ। কটন ও হাফসিল্ক দুই ধরনের জামদানিই এখন বেশ চলছে। বেছে নিতে পারেন লাল-সাদা জামদানি। শাড়ি ও ডিজাইনভেদে অষ্টমীর শাড়ির জন্য আপনাকে গুনতে হবে ৫০০ থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

নবমীতে একটু ভারি শাড়ি

নবমীতে পূজা দেখা, বেড়ানো আর দাওয়াত— সবকিছুতেই জামদানি বা টাঙ্গাইল শাড়ি তুলনাহীন। জামদানি শাড়িতে সোনালি বা রুপালি জরি সুতার কাজ আপনাকে দেবে গর্জিয়াস লুক। গতানুগতিক কটন জামদানির পাশাপাশি সিনথেটিক জামদানিও এখন বেশ চলছে। কিছু জামদানি শাড়ির পাড়ে এবার কোনো কাজ থাকছে না।

বৈচিত্র্য আনতে শাড়ির পাড়ে টেম্পলের কাজও করা হয়েছে। সুনিপুণ সুতার কাজ আর বাহারি ডিজাইনের টাঙ্গাইল শাড়ি আপনি অনায়াসে বেছে নিতে পারেন নবমীতে। টাঙ্গাইলের বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ির মধ্যে রয়েছে সুতি বালুচুরি, জুট সিল্ক, সুতি জামদানি, রেশম স্ট্রাইপ, টিস্যু জুট সিল্ক, সিল্ক কাঁথাস্টিচ, সফট সিল্কসহ বাহারি শাড়ি। কাজ ও মানভেদে জামদানির দাম পড়বে ৪ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা। আর টাঙ্গাইল শাড়ি ১ হাজার থেকে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা।

দশমী হোক জমকালো

পূজার শেষ দিনে গর্জিয়াস লুক তো চাই-ই। সেদিকে লক্ষ রেখে বাজারে এসেছে চমৎকার নকশা করা শাড়ি। কোনোটিতে শুধু পাড়জুড়ে দিয়ে আবার কোনোটিতে পাড়ের সঙ্গে এমব্রয়ডারি, সিকোয়েন্স, পুঁতি বা কারচুপির কাজ করা হয়েছে।

জমকালোভাব আনতে কিছু শাড়িতে ব্যবহার হয়েছে অ্যান্টিক ও জুয়েলারি স্টোন। শাড়িজুড়ে কারচুপি আর সিকোয়েন্সের কাজের সঙ্গে জুয়েলারি স্টোনের ব্যবহার শাড়িকে করেছে দারুণভাবে রাতের উৎসবে পরার উপযোগী। এছাড়া বেছে নিতে পারেন ক্রেপ বা নেটের শাড়ি। দশমীর মূল আনুষ্ঠানিকতা রাতে। তাই বেছে নিন গাঢ় কোনো রং। তবে রং নির্বাচনের সময় অবশ্যই গায়ের রংয়ের বিষয়টি মাথায় রাখবেন। নকশাভেদে এ ধরনের শাড়ির দাম পড়বে ৬ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা।

পূজার সাজে যে শাড়িই পরুন না কেন, গহনা বা সাজের দিকটা খুব খেয়াল রাখতে হবে। তবেই আপনার আসল সৌন্দর্য আর রুচির মসৃণ পরিচয় ফুটে উঠবে।