মেইন ম্যেনু

নারীত্ব লুকাতে ব্রিটেনেও চলছে ‘ব্রেস্ট আয়রনিং’

পুরুষদের কাছে কম আকর্ষণীয়, বিবাহপূর্ব গর্ভধারণ এবং নারীত্ব লুকিয়ে রাখতে বিশেষ পদ্ধতিতে কিশোরীদের ‘ব্রেস্ট আয়রনিং’ করে থাকে আফ্রিকার কিছু সম্প্রদায়। সম্প্রতি ব্রিটেনেও এই চর্চা শুরু হয়েছে। একটি সম্প্রদায় অবলিলায় কাজটি চালিয়ে যাচ্ছে। আর এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এক ব্রিটিশ মন্ত্রী।

প্রায় এক হাজার ব্রিটিশ কিশোরী এরই মধ্যে এই নির্মমতার শিকার হয়েছেন বলে ব্রিটিশ মন্ত্রী জানিয়েছেন।

এই পদ্ধতিতে স্তনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠেকানোর জন্য গরম পাথর, হাতুড়ি, চ্যাপ্টা চামচ ব্যবহার করা হয়। স্তন সঙ্কোচনের জন্যই তারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। ব্রেস্ট আয়রনিং প্রথার সূত্রপাত ক্যামেরুনে। প্রতি চারজনের মধ্যে একজন কিশোরী এই প্রথার শিকার। তাছাড়া, নাইজেরিয়া, বেনিন এবং চাঁদেও এই প্রথার চর্চা রয়েছে।

ব্রিটেনের রোজানডেল এবং ডারউইন অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি কনজারবেটিভ দলের সাংসদ জ্যাক বেরি চলতি সপ্তাহে হাউস অব কমন্সে এই বিষয়ে কথা বলেছেন।

জ্যাক বেরি বলেন, পশ্চিম আফ্রিকান সম্প্রদায় ইংল্যান্ডের বার্মিংহ্যাম এবং লন্ডনেও এই কুসংস্কারের চর্চা করছেন-তা শুনে স্তম্ভিত হয়েছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই অপরাধটির সঙ্গে কিশোরীদের মায়েরা জড়িত। আর এই ধরনের পাশবিক কুসংস্কারের জন্য জ্ঞানের অভাবই দায়ী। সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য পাবলিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই এই ধরনের চর্চা বন্ধ করা সম্ভব।

জ্যাক বেরি আরও বলেন, দশ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী মেয়েরা এই পরিস্থিতির শিকার হয়। এই পদ্ধতি একটি মেয়ের জন্য খুবই যন্ত্রণাদায়ক এবং অসহ্যকর। এতে ক্যানসার, সংক্রমণ এবং টিউমারও হতে পারে। এই পদ্ধতিতে গরম পাথর, হাতুড়ি, চ্যাপ্টা চামচ দিনে দুই বার ব্যবহার করা হয় কিশোরীদের স্বাভাবিক স্তনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠেকানো জন্য। এই প্রক্রিয়াটি সপ্তাহ, এমনকী কয়েক মাস ধরে চলতে থাকে। ধর্ম, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে শিশুদের ওপর এই ধরনের নির্যাতন করা হচ্ছে।

ব্রিটেনের নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মার্গারেট নাইয়োদোজেরিয়া বলেন, হ্যাঁ, এই ধরনের ঘটনা যুক্তরাজ্যে হচ্ছে। আমরা জানি, আমাদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে এটি ঘটছে। এটি খুবই নিষ্ঠুর এবং প্রচুর যন্ত্রণাদায়ক একটি ব্যাপার।মায়েরা তাদের কন্যা সন্তানদের মঙ্গলের কথা ভেবেই এই কাজটি করে থাকেন।যাতে করে তাদের কন্যা শিশুরা যৌন নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পায়। কিন্তু এই বিষয়টি ব্রিটিশ মূল্যবোধের সঙ্গে কোনোভাবেই যায় না।