মেইন ম্যেনু

নারীদের মন্দিরে প্রবেশে আগে পবিত্রতার পরীক্ষা নেওয়া হবে!

দক্ষিণ ভারতের একটি মন্দিরে প্রবেশের আগে নারীদের ‘পবিত্রতার’ পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আর এই পরীক্ষার জন্য মন্দিরের দুয়ারে নারীর দেহ স্ক্যান করা হবে।

কেরালার সবরিমালা মন্দির কর্তৃপক্ষের এই ঘোষণায় রীতিমতো ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যগুলোতে। ভারতে রজঃস্বলা অবস্থায় নারীদের মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি নেই। এ অবস্থায় কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণেরও অনুমতি নেই নারীদের। এ ছাড়া অনেক স্থানে অশৌচ অবস্থায় নারীদের রান্নাঘরেও প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

সবরিমালা মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মন্দিরে প্রবেশে ইচ্ছুক কোনো নারী রজঃস্বলা কি না, তা জানতে শরীর স্ক্যান করা হবে। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত গোপাল কৃষ্ণ বলেন, ‘এমন একদিন আসবে যখন লোকে জানতে চাইবে নারীদের সারা বছর মন্দিরে প্রবেশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত কি না। বর্তমানে সঙ্গে মারণাস্ত্র রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য স্ক্যান মেশিন রয়েছে। ভবিষ্যতে এমন সময় আসবে যখন নারীদের মন্দিরে প্রবেশের সঠিক সময় হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য তাদের শরীর স্ক্যান করার মেশিন উদ্ভাবিত হবে। তখন নারীদের মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে কি না, বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করব।’

পুরোহিতের এ মন্তব্যের পর ভারতজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের এ ঘোষণার পর ফেসবুকে হ্যাপিটুব্লিড নামের একটি ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন প্রগতিশীল নারীরা।

হ্যাপি টু ব্লিডের অফিশিয়াল পেজে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের মন্তব্য চরম পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচয়।’

গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এই ক্যাম্পেইন। নারীদের অনুরোধ করা হয়েছে তারা যেন স্যানিটারি ন্যাপকিন, চার্ট পেপার বা প্ল্যাকার্ডে ‘হ্যাপি টু ব্লিড’ লিখে নিজেদের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন।
এই ক্যাম্পেইনে নারীদের সঙ্গে বহু পুরুষও শামিল হয়েছেন। ইতিমধ্যে মফস্বল এলাকার শতাধিক নারী ফেসবুকে তাদের ছবি পোস্ট করেছেন।

সূত্র : বিবিসি