মেইন ম্যেনু

নারীরা যে কারণে জড়াচ্ছে জঙ্গিতে

ইদানিং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে জঙ্গি সংগঠনের নারী সদস্যদের। মূলত পুরুষ সদস্যদের জেরা করেই তাদের বিষয়ে জানতে পারছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আর তাদের পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ধরা হচ্ছে নারী সদস্যদের।

গত রোববারই সিরাজগঞ্জ থেকে আটক করা হয়েছে ৪ নারীকে। যারা কিনা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম, ছয়টি ককটেল ও জিহাদি বইও জব্দ করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন- সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার বাদুল্যাপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী নাদিরা তাবাসসুম রানী (৩০), বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ক্ষুদ্র ফুলকোটের মো. খালিদ হাসানের স্ত্রী হাবিবা আক্তার মিশু (১৮), এই উপজেলার পরানবাড়িয়ার সুজন আহমেদ বিজয়ের স্ত্রী রুমানা আক্তার রুমা (২১) ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মোচাদহ দক্ষিণপাড়ার মামরুল ইসলাম সরদারের স্ত্রী রুনা বেগম (১৯)।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরের দিকে পৌর এলাকার মাছুমপুরে অভিযান চালিয়ে একটি বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশে তারা ওই বাড়িতে বসে গোপন বৈঠক করছিল।

জঙ্গি ক্যাডার বললেই সাধারণত পুরুষদের কথাই সবাই মনে মনে চিন্তা করে। অথচ জেএমবিসহ বেশ কয়েটি সংগঠনে রয়েছে অনেক নারী সদস্য। মূলত জঙ্গি সংগঠনগুলোর পুরুষ সদস্যদের সাথে বিয়ের মাধ্যমে এই নারীরা যুক্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। তারা স্বামীদের মাধ্যমে জঙ্গি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন এবং সব কাজেই সহযোগিতা করেন। তাছাড়া ঘর ভাড়া পাওয়া, স্ত্রী-সন্তানসহ যাতায়াত করা, সহজেই অস্ত্র বহন করা, তথ্য সংগ্রহ- সবক্ষেত্রেই সুবিধাজনক হয় নারী সদস্যরা থাকলে।

এদিকে নারীদের জঙ্গি হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে তারই নিকটাত্মীয়রা। জঙ্গি সংগঠনগেুলোর সদস্যরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের অন্য সদস্যদের শ্যালিকা কিংবা বোনদেরই বিয়ে করে থাকেন। এতে করে নিজেদের তথ্য কিংবা অন্যান্য বিষয় বাইরে ফাঁস হয় না। জঙ্গি সংগঠনে জড়িয়ে পড়ার অনেকেই তার বোনদেরও এ পথে আনার চেষ্টা করে। এমন দৃষ্টান্ত দেখা গেছে বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম ওরফে মুকুল রানার ক্ষেত্রে।

মুকুল রানা বিয়ে করেন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) গুরুত্বপূর্ণ নেতা বিএম মুজিবুর রহমানের বোন মহুয়া আক্তার রিমিকে। আর এ বিয়ের মধ্যস্থতা করেছিলেন সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া বিতর্কিত মেজর জিয়াউল হক।

সাংগঠনিক কারণেই মেজর জিয়ার সঙ্গে এবিটি নেতা মুজিবুরের ঘনিষ্ঠতা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কের সূত্র ধরেই এবিটির সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে আর মেজর জিয়ার মধ্যস্থতায় চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি যশোরের জগন্নাথপুরে মোহাম্মদ আলী বিশ্বাসের মেয়ে ও মুজিবুরের বোন রিমির সঙ্গে বিয়ে হয় মুকুল রানার। তবে তার স্ত্রী মহুয়া আক্তার রিমির জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া না গেলেও স্বামী আর বড়ভাই জঙ্গি হওয়ার কারণে তার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন গভীর রাতে রাজধানীর মেরাদিয়ায় ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জঙ্গি নেতা মুকুল রানা নিহত হন। এর এক মাস আগে ১৯ মে মুকুল রানাসহ ৬ জঙ্গির ছবি প্রকাশ করে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘শুধু পুরুষরাই নয়, নারীদের জঙ্গি কার্যক্রমে লিপ্ত হওয়ার বিষয়টাও মনিটরিং করা হচ্ছে।’

নারীরা কেন জঙ্গি কার্যক্রমে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আদর্শগত মিলের কারণেই জঙ্গি কার্যক্রমে লিপ্ত নারী-পুরুষের বিয়ে হয়। এখান থেকেই পরবর্তী জেনারেশনও জঙ্গিবাদে ছড়িয়ে পড়ছে।’