মেইন ম্যেনু

নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনায় বিশাল বিক্ষোভ

নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনায় বিশাল বিক্ষোভ হয়েছে। দেশটির রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে হাজার হাজার নারী বিক্ষোভে অংশ নেয়।

বিবিসি অনলাইনের এক খবরে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুয়েন্স আয়ার্স ছাড়াও নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতার (ফেমিসাইড) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-পদযাত্রা হয়েছে প্রতিবেশী দেশ চিলি এবং উরুগুয়েতে।

আর্জেন্টিনায় নারীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সহিংসতায় কয়েকটি মামলার ঘটনার পর এই বিক্ষোভ আয়োজন করা হয়।

নারী অধিকার সংগঠন, ইউনিয়ন, রাজনৈতিক দল এবং ক্যাথলিক চার্চ এই বিক্ষোভে সমর্থন দিয়েছে। বুয়েন্স আয়ার্সে কংগ্রেসের (পার্লামেন্ট) সামনে বিক্ষোভকারীদের বিশাল জমায়েত হয়।

index1

বিক্ষোভ-পদযাত্রার ফেস্টুন-ব্যানারে লেখা হয়েছে, ‘একজনও হারাবে না’ (নো ওয়ান লেস) অর্থাৎ সহিংসতায় কোনো নারীর মৃত্যু হবে না। নারীদের প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনার ছবিযুক্ত গেঞ্জি পরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে অনেকে।

আর্জেন্টিনার সংবাদ সংস্থা তেলাম জানিয়েছে, বুয়েন্স আয়ার্সের এই বিক্ষোভে প্রায় ২ লাখ বিক্ষোভকারী অংশ নিয়েছে।

বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি এই বিক্ষোভে সমর্থন দিয়েছেন। তিনি তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘নারীর প্রতি অনেক সহিংসতা হয়েছে। আজ আমরা আর্জেন্টিনার সবাই ‘‘নো ওয়ান লেস’’ আওয়াজ তুলেছি।’

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফারনান্দেজ ডি ক্রিচনারও বিক্ষোভে সমর্থন দিয়ে ‘নারীদের ধ্বংস করে এমন সংস্কৃতির’ বিরোধিতা করেছেন।

চিলির রাজধানী সান্টিয়াগোতে শতাধিক লোক ‘মর্মাহত ও বিক্ষুব্ধ’ লেখা ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

সম্প্রতি আর্জেন্টিনার করডোবা রাজ্যের একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলে শ্রেণিকক্ষের সামনে তালাক দেওয়া স্বামীর হাতে খুন হন একজন শিক্ষিকা। এই ঘটনায় খুনির শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করে দেশটির নারী অধিকার আন্দোলন কর্মীরা।

index

অনাকাক্সিক্ষত অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরীকে পিটিয়ে হত্যা করে তার ছেলে বন্ধু। বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ সঞ্চার হয় নারী সমাজে।

নারী নির্যাতন ও নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা রুখতে ২০১২ সালে আর্জেন্টিনায় ফেমিসাইড আইন পাস হয়। এতে সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়।

লাতিন আমেরিকার অন্য দেশেও একই ধরনের আইন কার্যকর রয়েছে। তবে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই বলে অভিযোগ করে অধিকার সংগঠনগুলো। যে কারণে এই ধরনের সহিংসতা বন্ধ হওয়ার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না।