মেইন ম্যেনু

নারীর যৌন হয়রানি থেকে বাঁচতে দোতলা থেকে লাফ দিলেন পুরুষ

আর পাঁচ জন সওয়ারির মতোই সাকেত থেকে উমেশ প্রসাদের অটোরিকশায় উঠেছিলেন বছর বত্রিশের এক মহিলা। গন্তব্য সাত কিলোমিটার দূরের অর্জুন নগর। পৌঁছনোর পরে উমেশকে ওই মহিলা অনুরোধ করেন, সঙ্গে টাকা নেই তাই তাঁর সঙ্গে ফ্ল্যাটে গিয়ে ভাড়ার টাকা নিয়ে আসতে। তখনও উমেশ ভাবতে পারেননি, আগামী এক ঘণ্টায় ওই ফ্ল্যাট থেকেই পালানোর জন্য দোতলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিতে পা ভাঙতে হবে তাঁকে।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবারের ওই ঘটনায় উমেশ প্রসাদ নামে বছর চল্লিশের ওই অটোরিকশা চালক সফদরজঙ্গ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন, রেণু ললওয়ানি নামে অর্জুন নগরের ওই মহিলা তাঁর ফ্ল্যাটে উমেশের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য জবরদস্তি করেন। তাঁর জামা ছিঁড়ে, জোর করে চুমু খেয়ে যৌন হেনস্থা করেন রেণু। আর সেই সময় এক বিদেশিনি ওই ঘটনাটি রেকর্ড করছিলেন বলেও দাবি উমেশের।

অভিযোগ পেয়ে রেণুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দ্বিতীয় মহিলার খোঁজ চলছে। হিতিজা নামের ওই মহিলা তানজানিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। সফদরজঙ্গ থানার ইনস্পেক্টর বিশুদ্ধানন্দ ঝা জানিয়েছেন, রেণুর বাড়ি থেকে আরও চারটি অটো রিকশা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ব্যাজ পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এ ভাবে আরও অনেক অটোরিকশা চালককেই ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন রেণু।

উমেশের বয়ান অনুযায়ী, ফ্ল্যাটে পৌঁছনোর পরে তাঁকে এক গ্লাস

জল খেতে দেন রেণু। তার পরেই দরজা বন্ধ করে দিয়ে উমেশকে বলেন, তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে। উমেশ রাজি না হওয়ায় তাঁকে এক গ্লাস মদ খেতে দেন রেণু। উমেশ ফের আপত্তি জানালেই রেণুর আচরণ হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। তখনই তাঁকে হেনস্থা করেন রেণু। ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় মহিলার ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ডিং হয়েছে ঘটনাটি।

উমেশের দাবি, ঘণ্টাখানেক পর কিছু আলোচনার জন্য পাশের ঘরে যান ওই দুই মহিলা। তখনই পালাতে গিয়ে দেখেন দরজা খোলা যাচ্ছে না। বারান্দা থেকে সটান নীচে লাফ মারেন উমেশ। এতে তাঁর দু’টি পা-ই ভেঙে গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।