মেইন ম্যেনু

২৪ ঘণ্টার টোলফ্রি হেল্পলাইন ১০৯২১

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারের অভিনব উদ্যোগ

আয়েশা বেগমকে (ছদ্মনাম) আজ সানন্দে কাজ করতে দেখে প্রতিবেশীরাও হতচকিত। ক’দিন আগেও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে দিনরাত কাঁদতে দেখেছে তাকে। এক মাস বয়সী সন্তানকে আটকে রেখে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বাবার বাড়ি ফিরে ওই নারী প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটি টোলফ্রি নম্বর সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে ফোন করেন তাঁর সন্তানকে উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য। সেন্টার থেকে থানা-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় ফোন গেল। ওই দিনই নারী তাঁর সন্তানকে বুকে পেলেন।

হেল্পলাইনের সাহায্য নিয়ে এমনভাবেই এক নারীর সন্তান ফেরত পাওয়ার কথাগুলো বলছিলেন হেল্পলাইন সেন্টারের প্রধান সমন্বয়কারী শায়লা ইয়াসমীন। নারী ও শিশুদের নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার একটি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

‘১০৯২১’ এই নম্বরে নারী ও শিশুরা তাদের উপর অত্যাচার, অবিচার ও অনাচারের কথা সহজেই জানাতে পারবেন তাও আবার বিনা খরচে। এটি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি টোলফ্রি হেল্পলাইন নম্বর, অর্থাৎ ফোন করলে কোনো খরচ হয় না। ২৪ ঘণ্টাই এই নম্বর সেবা দিতে প্রস্তুত। বন্ধ বা সরকারি ছুটির দিন বলে কিছু নেই।

২০১২ সালের ১৯ জুন রাজধানীর ইস্কাটনে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে জাতীয় হেল্পলাইন সেন্টার এই সেবা চালু করেছে। বর্তমানে ১০ জন নারীসহ মোট ২২ জন এই সেন্টারে কর্মরত। নম্বরটি মূলত নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় সেবা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকার ও ডেনমার্ক সরকারের যৌথ উদ্যোগে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল কর্মসূচির আওতায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে নম্বরটি চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ১০৯২১ নম্বরটি হেল্পলাইন হিসেবে দেয়, যাতে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই নম্বরে ফোন করা যায়। এই নম্বরে ফোন করতে কোনো টাকা লাগে না। যেকোনো কোম্পানির মুঠোফোন বা টেলিফোন থেকে ১০৯২১ নম্বরে ডায়াল করার পর যিনি ফোন ধরবেন তাঁকে জানাতে হবে নির্যাতনের কথা। টেলিফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি এরপর থানা ও পুলিশকে জানানোসহ যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিনামূল্যে পাওয়া যায় পরামর্শও।

শায়লা ইয়াসমীন জানালেন, শুধু নিজে নির্যাতনের শিকার হলেই নয়, আশেপাশের কাউকে নির্যাতনের শিকার হতে দেখলে বা শুনলে সে তথ্যও জানানো যায়। এ ক্ষেত্রে তথ্যদাতার নাম-পরিচয় সতর্কতার সঙ্গে গোপন রাখা হয়।

সেন্টারের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে মোট ফোন এসেছে সাড়ে চার হাজার। ৫০ থেকে ৬০টি ফোন এসেছে বাল্যবিবাহ-সংক্রান্ত। ৪০টি বাল্যবিবাহের ঘটনা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি সেন্টারে কর্মরতদের। এখনো দিনে গড়ে ফোন আসছে আড়াই শর মতো। আগে এক শ থেকে দেড় শ ফোন আসত। অনেকে আবার সেবা চান না। তাঁরা কথাটুকু বলে নিজেকে হালকা করেন।

শায়লা ইয়াসমীন বলেন, বাল্যবিবাহের ঘটনাটি যে সময়ে ঘটছে, ঠিক সে সময়ে কিছু কিছু ফোন আসে। পুলিশ, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওই বাড়িতে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। এর মধ্যে দেখা যায় বিয়ে পড়ানো শেষ। তাই যার বিয়ে হচ্ছে সে অথবা যাঁরাই ফোন করেন, অন্তত ঘণ্টা দুই আগে ফোন করলে বিয়েটা ঠেকানো সম্ভব হয়।

শায়লা ইয়াসমীন আরও বলেন, ‘যেকোনো ঘটনায় যথাযথ সেবা পাওয়ার পর ভুক্তভোগী নিজে যখন ফোন করেন, ধন্যবাদ বলেন, তখন যে খুশি লাগে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। তবে অনেক সময় হেল্পলাইন থেকে ফোন করার পরও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা যদি গুরুত্ব না দেন, তখন খুব খারাপ লাগে। মনে হয় আমরাই যদি সরাসরি ভুক্তভোগীকে সেবা দিতে পারতাম।’