মেইন ম্যেনু

নারী বলেই কী এতো অবহেলা?

অধিকাংশ কর্মজীবী নারীর যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বাস। এক্ষেত্রে প্রতিদিনই তাদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। কখনো বাসে সিট না পেয়ে পুরুষদের সাথে দাড়িয়ে দাড়িয়ে যাওয়া, কখনো বা গাড়িতে ওঠার সুযোগ না পাওয়া। তারপরও পিছিয়ে নেই তার।

রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালু করলেও এর সংখ্য সামান্য। তাই প্রতিনিয়ত পুরুষদের সাথে সাথে নারীদেরও বরাবরযুদ্ধ করে উঠতে হয় লোকাল বাস গুলোতে।

কখনো সিট পাওয়া হয় না, কখনো ধাক্কা-ধাক্কি করে ওঠা, আবার কখনোবা অনেক পুরুষের মাঝে এক জন নারী দাড়িয়ে থাকা। এ সব ঘটনা যে তাদের দৈনন্দিন ব্যপার।

নিজেদের এ ভোগান্তি নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎস ডা. সিফাত বলেন, প্রতিদিনই আমাকে বাসে চলাচল করতে হয়। নারী বলে যখন বাসে উঠাতে চাই, খুব কষ্ট লাগে তখন। নারী বলেই কী এতো অবহেলা?

নারীদের জন্য আলাদা বাসের ব্যপারে জানতে চাইলে ডা. সিফাত বলেন, আমাদের জন্য আলাদা বাস না বাড়িয়ে প্রতিটি বাসে নারীদের জন্য কিছু আলাদা সিট বরাদ্ধ করে রাখুক। এতে আমরা এ সেবা সব সময় পাবো।

পুরুষদের মত দাড়িয়ে দাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে কুলসুম আক্তার হাসি নামে এক সরকারি চাকরিজীবি বলেন, আমাদের কিছুই করার নাই। প্রতিদিনই এভাবে যাওয়া আসা করতে হয়। মাঝে মাঝে আমাদের (নারীদের) দেখলে তারা বাস টেনে চলে যায়। কারন এক জন নারী না উঠলে তিন জন পুরুষ উঠাতে পারবে।

মাঝে মাঝে বাসের কন্ট্রাকটাররা আমাদের বলে মহিলার সিট নেই পরের গাড়িতে আসুন। আর পরের গাড়ির জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। এজন্য খুব খারাপ লাগে তখন, বলেন কুলসুম আক্তার হাসি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফাতেমা আক্তার। তিনি বলেন, সপ্তাহে প্রায় ৪/৫ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হয়। আর সব সময় লোকাল বাসেই ছড়তে হয়। পুরুষের সাথে ধাক্কা-ধাক্কি করে উঠা, সিট না পেয়ে দাড়িয়ে থাকা, সিটের অভাবে আমাদের বাসে না তোলা এসব ঘটনা আমাদের সাথে প্রতিদিনই ঘটে। তারপরও আমাদের চলতে হয় জীবনের তাগিতে।

প্রতদিনই হয়রানির শিকার হই, নিরাপত্তাহীনতা বোগী, সম্মান হারানোর ভয়, সব মিলিয়ে পথে বের হওয়াই যেন আমাদেন জন্য বড় আতঙ্ক।