মেইন ম্যেনু

নার্সদের অবস্থান ধর্মঘট মধ্যরাতে হটিয়ে দেয়ার হুমকি

‘ঘর-সংসার ফেলে ১৫ দিন ধরে খোলা আকাশের নীচে রাস্তায় পড়ে আছি। সরকারের কেউ আমাদের খোঁজও নেয়নি। এবার নাকি মধ্যরাতে ঘুমের ভেতর হামলা চালিয়ে এখান থেকে আমাদের তাড়ানো হবে।’ কান্না চেপে আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেয়া বেকার নার্স নূর নাহার।

তিনি বলেন, ‘সোমবার এই অবস্থানস্থল থেকে বেকার নার্সদের একটি বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগের উদ্দেশে যাওয়ার সময় পুলিশি বাধায় এগুতে পারেনি। পুলিশের এক দারোগা এসে বলে গেছেন, রাতে আমাদের এখানে আর বসতে দেয়া হবে না। জলকামান দিয়ে হলেও তুলে দেয়া হবে।’

২০০৭ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) থেকে ৪ বছরের ডিপ্লোমা শেষ করে আসা এই ভাগ্যবিড়ম্বিতা আরো বলেন, ‘নিজের পয়সায় এখানকার শুকনো খাবার খেয়ে এবং জাতীয় প্রেসক্লাব ও বারডেমের টয়লেট ব্যবহার করে কষ্টকর এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছি। দুষ্টু পথচারীদের উদ্দেশ্যমূলক দৃষ্টির সামনে বিনিদ্র রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘কথিত নার্সবান্ধব এ সরকার ও প্রশাসন কেন জানি এখনো আমাদের দিকে তাকাচ্ছে না। অথচ দেশে হাজার হাজার নার্সের পদ শূণ্য রয়েছে। ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ করে নার্সিং ডিপ্লোমা শেষে ১০ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছি। আমার মতো বেকার নার্সদের সংখ্যাও হাজার হাজার। সরকার মুখে ভালোবাসার কথা বলবে আর আমাদের দিকে তাকাবে না তা হয় না। আমাদের দাবির নায্যতার পক্ষে দেশের হাজারো মানুষ গণস্বাক্ষর দিচ্ছে। গত শনিবার থেকে অবস্থান ধর্মঘটে এসে সংহতি প্রকাশ করে তারা এ স্বাক্ষর দিচ্ছে।’

‘অবস্থান ধর্মঘটের পাশাপাশি মেধা ও ব্যাচভিত্তিক নার্স নিয়োগের দাবি জানিয়ে কয়েক দফা স্মারকলিপিও দেয়া হয়েছে। অথচ লাগাতার অবস্থান ধর্মঘটের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়ে চলছে আমাদের প্রতি সরকারের অবজ্ঞা। এতে আমিসহ আমাদের সকলের মনের ক্ষোভ ও হতাশা অসহ্য অবস্থায় পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে যেকোনো অঘটনের দায় সরকারকেই নিতে হবে।’ একইসঙ্গে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে এসব কথা বললেন, আঞ্জুমান আরা, খুশি আরা, ফাতেমাতুজ জহুরাসহ আন্দোলনরতরা।

এদেরই একজন সাজেদা খাতুন। তিনি মোহাম্মদপুর থেকে প্রতিদিন আসেন এ আন্দোলনে অবস্থান নিতে। বাসায় ফেলে আসেন তার ৭ বছরের শিশু তুবা আর ২ বছরের সাদকে। তিনি বলেন, ‘ওরা (সন্তান) কান্নাকাটি করে বাসায় ফিরতে ফোন দেয়, কিন্তু আমি এখান থেকে যেতে পারি না। কারণ ওদেরকে ভালোভাবে মানুষ করার কথা ভেবেই তো ডিপ্লোমা কোর্স করেছিলাম সেই ২০০৬ সালে। অথচ প্রথমে ব্যাচভিত্তিক নিয়োগের কথা বলে তখন থেকে আমাদের অপেক্ষায় রেখেছে সরকার। এতোদিন পর এসে সরকার আমাদের নিয়োগের বিষয়ে আবার ভিন্ন সুরে কথা বলছে।’

এছাড়া শেষ ২০১৩ সালে নার্স নিয়োগের সময় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় ১৩ সালের ব্যাচের ডিপ্লোমাধারীদেরকেও ওই কোটায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর সাধারণ বলেই এতোদিন বসে থাকার পরও আমাদের কোনো খবর নিচ্ছে না সরকার।

এদিকে মিছিলে প্রশাসনের বাধা বা জলকামান ব্যবহার করে অবস্থান থেকে তুলে দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (পেট্রোল) ইমানুল হক বলেন, ‘এসব কথা মোটেই ঠিক নয়। যদি বাধাই দেয়া হবে তবে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের মুহূর্তে রাস্তায় তাদের বিক্ষোভ মিছিল করতে দিতাম না।’