মেইন ম্যেনু

নাশকতার দুই মামলায় আসলাম চৌধুরীর ৬ মাসের জামিন

নাশকতার দুটি মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরো তিনটি মামলায় থাকায় এখনি তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উল্লাহ।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব বলেন, ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি মতিঝিল ও লালবাগ থানায় নাশকতার মামলা করা হয়। এসব মামলায় আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে এসব মামলায় আটক দেখানো হয়। আদালত শুনানি শেষে আজ ওই দুটি মামলায় ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ইসরায়েলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোম্যাসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর বৈঠকের খবর ৯ মে প্রকাশিত হয় ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম অনলাইন ডটকম’-এ। এরপর বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমেও মেন্দির সঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর বৈঠক-সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। খবর প্রকাশিত হওয়ার পর দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এর পর তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। গত ১৫ মে বিকেলে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গুলশান থানায় করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় আসলাম চৌধুরী জামিন আবেদন করলে তা উত্থাপিত হয়নি মর্মে গত ১৮ জুলাই খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ২০ জুন চট্টগ্রামে একটি ব্যাংকঋণের বিপরীতে দেওয়া চেক প্রত্যাখ্যানের (ডিজঅনার) মামলায় আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, পূবালী ব্যাংকের চট্টগ্রামের সিডিএ শাখা থেকে ৩৬ কোটি আট লাখ টাকা ঋণের বিপরীতে আসলাম চৌধুরীর দেওয়া আটটি চেক ডিজঅনার হয়।

২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেওয়া এসব চেক ডিজঅনার হয়।

এরপর চট্টগ্রামে বেসরকারি এবি ব্যাংকের সোয়া ৩০০ কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আসলাম চৌধুরীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ১৭ জুলাই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই মামলায় আসলাম চৌধুরীর স্ত্রী জামিলা নাসরিন মাওলা, তাঁর ভাই রাইজিং স্টিল মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, এবি ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বদরুল হক খান ও ফজলুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।