মেইন ম্যেনু

নায়ক হেলাল খানের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা, শুনানি শেষে জামিন

ঢাকাইয়া চলচ্চিত্রের নায়ক হেলাল খানের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী উমা খান ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি যৌতুকের মামলা করেছেন। তবে ওই মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হোসেন তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এদিন হেলাল খান ওই বিচারকের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। বিচারক শুনানি শেষে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানিকালে তার স্ত্রী উমা খান আদালতে হাজির ছিলেন। তখন তার আইনজীবী হেলাল খানের জামিনের বিরোধিতা করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দে’র আদালতে হেলাল খানের স্ত্রী উমা খান আদালতে হাজির হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেন। বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আসামিকে আগামী ৩ জানুয়ারি আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ৬০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করায় যৌতুক আইনের ৪ ধারায় হেলাল খানের স্ত্রী উমা খান এই মামলাটি করেছেন। ১৯৮৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি হেলাল খানের সঙ্গে উমা খানের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার পরিবার ১০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং আসবারপত্রসহ মোট ১০ লাখ টাকার জিনিসপত্র প্রদান করেন। পরবর্তীতে তাদের দুই ছেলে সন্তান ফয়সাল খান হেলাল (২৯) ও শৈবাল খান হেলাল (২৩) জন্মগ্রহণ করে। যারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

বিয়ের পর কিছুদিন তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো থাকলেও পরবর্তীতে পরনারী আশক্ত হেলাল খান বাদীর কাছে ৬০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। বাদী তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি মারধর করেন। এতে বাদী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। ওই সময় তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিলে চতুর হেলাল খান বাদীর কাছে মাফ চান। ফলে তখন উমা মামলা করা থকে বিরত থাকেন। এরপর কিছুদিন ভালো থাকার পর আবার আসামি হেলাল খান প্রতিনিয়ত যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

সর্বশেষ গত ৭ ডিসেম্বর তিনি রোড নং-১১, বাড়ি নং- ১৫, অ্যাপার্টমেন্ট নং-৪/সি বারিধারার বাসায় স্ত্রীর কাছে আবারো ৬০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। কিন্তু টাকা না দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি উমাকে মারধরের পর বাসা থেকে বের করে দেন। একইসঙ্গে হুমকি প্রদান করেন যে, ৬০ লাখ টাকা যৌতুক না দিলে তাকে তালাক দেয়া হবে, প্রয়োজনে যৌতুক নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করবেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নেতা হেলাল খানকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নাশকতার দুই মামলায় গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরবর্তীতে ৩ মাসের অধিক সময় তিনি মামলাগুলোয় কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান।